ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, গত ঈদুল আজহার আগের দিন মগবাজারে অবস্থিত আদ্ব-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু দেশের অন্য সকলের মতো আমাদেরকেও ব্যথিত করেছে। এমন দুর্ঘটনার পরে তদন্ত হওয়া, তদন্তে যাদের দায় বা কর্তব্যে অবহেলা পাওয়া যাবে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোন দায় থাকলে তাও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আসা উচিৎ। কিন্তু দেশের স্বাস্থ্য সেবায় প্রতিষ্ঠিত একটি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করার যে সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়েছে কোনভাবেই তা কাম্য নয় এবং এটা কোন ন্যায্য সিদ্ধান্তও নয়।
বৃহস্পতিবার ১১ জুন এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র এই মন্তব্য করে বলেন, আমরা মনে করি, তদন্তে যাদের দায় বা অবেহলা পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, হাসপাতালের কোন ত্রুটি থাকলে হাসপাতালকে জরিমানা করা যেতে পারে কিন্তু কোন অবস্থাতেই আদ্ব-দ্বীন হাসপাতালের মতো একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান যাদের অবদান সর্বজন স্বীকৃত তাদের লাইসেন্স বাতিল করা যাবে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে লাইসেন্স বাতিল করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে।
বিবৃতিতে বিস্ময় প্রকাশ করে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের সর্বত্র অরাজকতা ও অন্যায্যতা বিরাজ করছে। অধিকাংশ হাসপাতাল মানসম্মত সেবা প্রদান করে না। যেসব হাসপাতাল মানসম্মত সেবা প্রদান করে সেখানে মাত্রাতিরিক্ত মূল্য ধার্য করে। সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সরকারী হাসপাতালে মানবেতর সেবা গ্রহণ ছাড়া উপায় থাকে না। সেখানে আদ্ব-দ্বীন হাসপাতাল ২০০০ সাল থেকে স্বল্পমূল্যে মানসম্মত সেবা প্রদান করে আসছে। বিগত ছাব্বিশ বছরে তাদের থেকে ২ কোটির মতো রোগী সেবা পেয়েছে। হাসপাতালে দেড় লক্ষাধিক সার্জারি হয়েছে এবং বিশ-লক্ষাধিক গর্ভবতী নারী সেবা নিয়েছে। গর্ভবতী নারীর সেবায় সার্জারির বিপরীতে নরমাল ডেলিভারিতে আদ্ব-দ্বীন হাসপাতালের অবদান এক অনন্য মাত্রা অর্জন করেছে। গরীবদের সেবায় এই হাসপাতালে রয়েছে অসামান্য অবদান। এতো বেশি রোগীর সেবা করলেও বিগত ২৬ বছরে এই হাসপাতালে বড় ধরণের কোন দুর্ঘটনার নজীর নাই। এটা এই হাসপাতালের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাক্ষ্য প্রদান করে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আদ্ব-দ্বীন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বিপুল অংকের আর্থিক জরিমানা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
তাই সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া নবজাতকের মুত্যুকে একটি দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখা বাঞ্ছনীয়। আমরা মনে করি, ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার জন্য সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। কিন্তু আদ্ব-দ্বীনের মতো গরীববান্ধব, সাশ্রয়ীমূল্যের মানসম্মত সেবা প্রদানকারী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা যাবে না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

