প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকালে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজনকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে জাপান বিএনপি।
দলটির শীর্ষ নেতাদের দাবি, এ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বিএনপির কোনো নেতাকর্মী কারও কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় বা চাঁদাবাজি করেননি; বরং নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দলের সমমনা ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজন করা হয়েছিল।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকালে গত ২৮ অক্টোবর টোকিওতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে তাঁর মতবিনিময় সভাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ঢাকার একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। গত ৬ নভেম্বর প্রকাশিত ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বলে মিলিয়ন ইয়েন চাঁদাবাজি’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রবাসী ব্যবসায়ী ও নেতাকর্মীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, প্রবেশপত্র না দেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। প্রকাশিত ওই সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাপান বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রতিবাদলিপিতে জাপান বিএনপির সভাপতি মীর রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়েছিল। এ আয়োজনে বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দলের প্রতি সমমনা ব্যবসায়ীরাও স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করেছেন। কারও কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় কিংবা চাঁদাবাজির কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য।’
জাপান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল ইসলাম মনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানটি ছিল পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের একটি উন্মুক্ত আয়োজন। এটি কেবল বিএনপির নেতাকর্মীদের দলীয় কোনো প্রোগ্রাম ছিল না। ফলে প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ নেই। জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।’
জাপান বিএনপির প্রধান পৃষ্ঠপোষক মো. শহীদুল ইসলাম নান্নু প্রকাশিত সংবাদটিকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ব্যক্তির পোস্টের ভিত্তিতে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই জাপান বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অনভিপ্রেত। কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের অভিযোগ সংবাদ হিসেবে প্রকাশের আগে তার সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদে কান না দিয়ে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’
জাপান বিএনপির ১ নম্বর সহসভাপতি ড. মাসুম জাকিরও প্রকাশিত অভিযোগগুলো জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একপাক্ষিক বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনো সংগঠন বা এর নেতাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তোলা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচয় হতে পারে না।’ দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা যেন দলের ঐক্য ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
এ ছাড়া জাপান বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আলমগীর হোসেন মিঠু, সম্মানিত সদস্য কাজী এনামুল হক, উপদেষ্টা মোফাজ্জল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক সাইফুল্লাহ জায়েদ এবং যুগ্ম সম্পাদক কাজী সাদেকুল হায়দার বাবলুসহ নির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যও প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
জাপান বিএনপির নেতাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর সে দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহের সৃষ্টি করেছিল। সেই স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ থেকেই কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের অংশগ্রহণে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসে দলের সাংগঠনিক শক্তি ও সংহতি বজায় রাখতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এড়িয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


