আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা প্রস্তাব এনসিপির

মাহফুজ সাদি

নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা প্রস্তাব এনসিপির

ছাত্রদের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা প্রস্তাব করেছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে দেওয়া প্রস্তাবে এ সরকারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অন্তর্বর্তী’ কিংবা ‘তত্ত্বাবধায়ক’ সরকার। দলটি তাদের প্রস্তাবে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের সুপারিশ করেছে; নিম্নকক্ষ বা বিদ্যমান সংসদ ও উচ্চকক্ষ।

প্রস্তাব অনুযায়ী, নিম্নকক্ষের মাধ্যমে সব দলের প্রস্তাবিত প্রার্থীদের মধ্য থেকে একজনকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বাছাই করার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে নিম্নকক্ষ ব্যর্থ হলে উচ্চকক্ষে ভোটিংয়ের মাধ্যমে একজন প্রধান উপদেষ্টা ঠিক করার প্রস্তাব রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এনসিপি তাদের প্রস্তাবিত রূপরেখায় দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের সব দল মিলে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ, নিম্নকক্ষ নিয়োগে ব্যর্থ হলে উচ্চকক্ষে ভোটিংয়ে প্রধান উপদেষ্টা চূড়ান্ত করা এবং এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংসদ ভেঙে দেওয়ার ২১ দিন আগে সর্বদলীয় কমিটি গঠন করার কথা রয়েছে। এ ছাড়া দুর্নীতি বা ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হলে কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য কিংবা দলীয় বক্তব্যের নজির থাকলে কেউ প্রধান উপদেষ্টা হতে পারবেন না বলেও বলা হয়েছে রূপরেখায়।

এনসিপির একাধিক সূত্র জানায়, নিরবচ্ছিন্ন, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী/তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখাটি গত ২৫ মে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই দিন ইমেইলের মাধ্যমে এই সুপারিশ পাঠানো হয়েছে, কমিশনের সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শুরু হলে এটি সরাসরি হস্তান্তর করা হবে। এই রূপরেখায় অতীতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রেক্ষাপট, তিক্ত অভিজ্ঞতা, গণতন্ত্রের দূর্বল হওয়া এবং সবশেষ ফ্যাসীবাদের প্রতিষ্ঠাসহ নানা বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৯১ সাল থেকে ক্ষমতাসীনদের পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে নিয়ম-কানুন পরিবর্তন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করাসহ বর্ণনা রয়েছে রূপরেখায়। কেন রাজনৈতিক দলগুলো শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকার করেছে, তার কিছু কারণ এতে চিহ্নিত করা হয়েছে। ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর নিশ্চিত করতে দুটি বাধা অতিক্রম করার কথা বলা হয়েছে রূপরেখায়।

তা হলো— নির্বাহী আধিপত্যবাদ রোধ করতে হবে, যাতে ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতা হারানোর পরিণতি সম্পর্কে সর্বদা ভীত না থাকেন এবং নির্বাচনি ও তদারকি প্রতিষ্ঠানের ওপর বিরোধীদলের আস্থা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক কাঠামোর মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়ন না করে ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তাই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা অথবা এনসিসির মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের নিয়মিত, নিরবচ্ছিন্ন ও শান্তিপূর্ণ পথ নিশ্চিত করার প্রস্তাব করেছে এনসিপি।

আইনসভার মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ

দলটির রূপরেখায় বলা হয়েছে— আইনসভার প্রস্তাবিত নিম্নকক্ষ তথা সংসদ ভেঙে দেওয়ার অন্তত ২১ দিন আগে ১১ সদস্যের একটি সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি গঠন করা; প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে কমিটিতে সংসদীয় দলগুলোর সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ; কমিটিতে সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে দলের ন্যূনতম ৫ শতাংশ ভোটের অধিকারী হওয়া; আইনসভার যে কোনো কক্ষের সদস্য এ কমিটির সদস্য হতে পারা; সরকারি দল, প্রধান বিরোধী দল এবং অন্যান্য বিরোধী দল

নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তিনজন করে ৯ জন নির্দলীয় প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করা; দলগুলোর প্রস্তাবিত নামগুলো জনগণের কাছে খোলাসা করা; প্রস্তাবিত নামগুলো থেকে একজন চূড়ান্ত করতে সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো; ৮-৩ ভোটে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে একজন ব্যক্তির নাম চূড়ান্ত করা; এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে উচ্চকক্ষ র‍্যাংকড চয়েস ভোটিং পদ্ধতিতে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন করা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন