ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, গুম একটি রাষ্ট্রীয় অপরাধ। সাধারণত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশ ও পুলিশের বিশেষায়িত শাখার মাধ্যমেই গুম সংঘটিত হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামরিক বা আধাসামরিক বাহিনীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। ফলে গুমের অপরাধ তদন্ত করার জন্য স্বাধীন সাংবিধানিক কোনো প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া না হলে গুমের প্রতিকার পাওয়া যাবে না। গুমের দায়িত্ব পুলিশকে দিলে গুম আগের মতোই সুরাহা-অযোগ্য অপরাধে পরিণত হবে।
অথচ গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ আইনে গুমের তদন্তের দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে গুমের তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়া হয়েছিল। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ বিষয়ে প্রবল আপত্তি জানাচ্ছে এবং গুমের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নিয়মিত সভায় দলের মহাসচিব এই দাবি করেন।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, গুম প্রতিরোধ আইনে ভালো ভালো কিছু ধারা আছে। কিন্তু সেসব ধারা সক্রিয় হতে গুমকে গুম হিসেবে স্বীকৃত হতে হবে। কিন্তু পুলিশের কাছে এর তদন্তভার থাকলে গুমকে গুম হিসেবেই প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম-মহাসচিব প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান, দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


