দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুই পক্ষ

জবিসহ চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে আহত দেড় শতাধিক

জবিসহ চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে আহত দেড় শতাধিক
ঢাকা কলেজের সামনে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের অবস্থান

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের দেড়-শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা আহত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। হাসপাতালে আহতদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রশিবির। দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। আতঙ্কে পথচারীরা ছোটাছুটি শুরু করে। সংঘর্ষের সময়ে দুই পক্ষেরই হাতে লাটিসোটা দেখা গেছে। একে অপরের প্রতি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। সংঘর্ষ থামাতে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরা এগিয়ে এলেও তাদের নিবৃত করা যায়নি। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও সংঘর্ষ বন্ধে তাদের খুব একটা তৎপরতা চোখ পড়েনি। ঢাকা কলেজে সংঘর্ষের সময় দুটি ককটেল বিষ্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান ও ভিসিসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা। এ সময় জকসুর নেতৃবৃন্দ কিছু প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তাদের প্ল্যাকার্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ ও অস্থায়ী হল নির্মাণ, মেডিক্যাল সেন্টারে পর্যাপ্ত ল্যাব–সুবিধা, টেকনিশিয়ান এবং চিকিৎসক নিয়োগসংক্রান্ত দাবি-দাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। তাদের সাথে ছাত্রশিবির, ইনকিলাব মঞ্চ, ছাত্রশক্তিসহ কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ছিলেন। অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জকসু নেতাদের ধাক্কাধাক্কি হয়। জকসুর নেতারা মিলনায়তনে প্রবেশমুখের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত্ব চত্বরে, শহীদ মিনার প্রাঙ্গণসহ কয়েকটি জায়গায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রশিবিরের সভাপতিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হয়েছেন। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা শিবিরকে ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। আহত শিবিরের নেতাকর্মীরা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আক্রমণ করে বলে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পাশাপাশি কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। হামলার সময় হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে, যা পুরো হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অ্যম্বুলেন্স ভাঙার অভিযোগ পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, জকসুর ব্যর্থতা ও সারা বাংলাদেশের জামায়াত-শিবিরের অপকর্ম ঢাকার জন্য তারা এসব করছে। আমরা যখন দেখি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) তারা মব করার চেষ্টা করছে, একইভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও তারা মব করার চেষ্টা করছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তারা ছাত্রলীগের মতো মব কালচার করে যাচ্ছে।

জকসুর জিএস ও শাখা শিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ জানান, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তুলে ধরতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান। এতে জকসুর প্রতিনিধিরা আহত হন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, হামলার পেছনে কয়েকজন শিক্ষকেরও মদদ ছিল। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিচার এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

হামলার বিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, প্রথমিক হামলায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। আমাকে মুখে, নাকে, পায়ে ও হাতে লাথি মারা হয়েছে। তারা এলোপাতাড়ি মারধর করে আমাদের কয়েকজনকে আহত করেছে। এ ছাড়া ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখও আহত হয়েছেন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসীভ বলেন, ইউজিসি চেয়ারম্যানের অনুষ্ঠানে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক ছিল না। তার অভিযোগ, অবস্থানরত জকসু, ইনকিলাব মঞ্চ ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান। একজন শিবিরকর্মীকে ২০ থেকে ৩০ জন মিলে মারধরের ঘটনাও তারা দেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের দখলদারির রাজনীতি বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফকে মারধর করতে করতে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছে ছাত্রদল। হামলার সময় উপস্থিত ছিলেন জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন।

জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ছাত্রশিবির ও জকসু প্রতিনিধিরা পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা নিজেরা নিজেদের প্ল্যাকার্ড ছিড়ে আমাদের ওপর দায় চাপাচ্ছে।

এ বিষয়ে জগন্নাথ প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দীন বলেন, এটি জকসু ও শিবিরের পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড। জকসুর ছাত্রপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের কোনো দাবি-দাওয়া থাকলে তা বক্তব্যের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে পারত। কিন্তু তা না করে প্ল্যাকার্ড নিয়ে ইউজিসির চেয়ারম্যানকে অপদস্থ করার উদ্দেশ্যে এসব ইস্যু সামনে আনা হয়েছে। ওই সময় সহকারী প্রক্টররা গেটে উপস্থিত না থাকলে তারা গেট ভেঙে হামলা চালাত। তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন বলেন, আমাদের কতিপয় কিছু শিক্ষার্থী ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে চেয়েছিল।সেসময় প্রক্টরিয়াল টিম ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সকলে তাদের বাধা দেয়। পরবর্তীতে ছাত্রসংগঠন গুলো প্রক্টরিয়াল বডির সাথে তর্কে জড়িয়ে গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আমরা কোনো সংঘাতকে সমর্থন করি না। সকল ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন গুলোকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাই। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছি। সংঘাত থামাতে প্রক্টরিয়াল টিম সহ আমরা সকালে মাঠে ছিলাম। পরবর্তীতে এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে নিরাপত্তা বাহিনীকে অবগত করি। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সেজন্য ভেতরে ইতোমধ্যে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সংঘর্ষ নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবৃতি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসন বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম, শিক্ষার পরিবেশ এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারে। একইসঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আগে থেকেই বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করা হয়েছিল। এতে আরও বলা হয়, জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ইউজিসির সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে অনুষ্ঠানে সবার দায়িত্বশীল ও শৃঙ্খলাপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশিত ছিল। তবে অনুষ্ঠান চলাকালে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করে প্রশাসন জানায়, এ ধরনের ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নষ্ট করতে পারে।

আলিয়া মাদ্রাসায় শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ আহত ৫০ : রাজধানীর ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হক (৫২) আহত হন। পরবর্তীতে কলেজের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার বিকাল ৫টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। একই ঘটনায় ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি শামীম মাহমুদ (৩০) আহত হয়েছেন। এছাড়া ছাত্রদলের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সানাউল্লাহ (৩০) ও লালবাগ থানার ছাত্রদলের সদস্য সচিব ছার উদ্দিন রাব্বি (২৭) আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আহতদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সকাল থেকেই ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দুপুরের পর তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে।

ছাত্রদলের দাবি, ছাত্রশিবির পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। আর ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, হলের সিট অবৈধভাবে দখলের প্রতিবাদ করায় তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। চকবাজার ওসি মো. মামুন জানান, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ক্যাম্পাসের বাইরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় সংঘর্ষকালে যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নকে দেখা গেছে। এ সময় তার পরনে সাদা পাঞ্জাবি, মাথায় হেলমেট আর হাতে পাইপ ছিলো।

এছাড়াও ঢাকা কলেজেও শিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিবিরের অন্তত ২০ ও ছাত্রদলের ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকা কলেজের গ্যালারি নম্বর ২ এ ঘটনা ঘটে। সংর্ঘষ চলাকালে এখানে দুটি ককটেল বিষ্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।

জানা গেছে, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কলেজের ২ নম্বর গ্যালারিতে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে কলেজ শাখা ছাত্রশিবির। সেই অনুষ্ঠানের ব্যানার টানানোর সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি থেকে সংঘর্ষে ছড়িয়ে পড়ে।

ছাত্রদলের কর্মী রাসেল বলেন, সকালে শিবিরের একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বহিরাগত শিবিরের কর্মীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হন। এ সময় তারা ছাত্রদলের কর্মীদের উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেন এবং এক কর্মীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাসেল আরও বলেন, এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল বের করেন। পরে শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে ধাওয়া দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মামুন দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কলেজের গ্যালারি-২-এ শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান উপলক্ষে অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে ৫ ও ৬ নম্বর গ্যালারিতে সাজসজ্জার কাজ চলছিল। এ সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মী এসে আব্দুল মালেকসহ কয়েকজনকে মারধর করেন। এতে আব্দুল মালেক মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য পপুলার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বেরোবিতে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি, ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও রংপুর মহানগর শাখা ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকর্মীরা।

এ সময় বেরোবি ছাত্রদলের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক জহির আলম নয়ন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ইমরান হোসেন, সদস্য সচিব নূর হাসান সুমন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম, জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক শরীফ নেওয়াজ জোহা, সদস সচিব আফতাবুজ্জামান সুজন, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল ইমরান সুজন, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবিসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অবস্থান কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রশিবিরকে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে তাদের অবস্থান করতে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রদক্ষিণ করেন। অন্যদিকে, সংঘর্ষের আশঙ্কায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। এর আগে সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পাঁচ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের পর থেকে ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অতিথি ও দর্শনার্থীসহ সব ধরনের বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইয়ামিন বলেন, যারাই ৭১ কে কটাক্ষ ও জুলাইকে ছোট করবে তাদের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সর্বাত্মক প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

তাজহাট থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত ফোর্স রয়েছে। আমরা সবকিছু নজরে রাখছি, আশা করছি কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে ও আমাদের কন্ট্রোলেই আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী বলেন, এ ঘটনার পর আমরা দুই ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সাথে বসেছি এবং আলোচনা করেছি। আজকের এই কর্মসূচি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীদের কোন কর্মসূচি নয় এটা রংপুর মহানগর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কর্মসূচি। তারা শান্তিপূর্ণভাবেই ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করছে। সকল ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা সজাগ আছি।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ‘ঢাকায় দুই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সংঘর্ষ হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুক আছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন