বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, লাল-সবুজ পতাকার ভূখন্ড রক্ষায় এদেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ৩২ জেলার জনগণ পুশইন রুখে দিতে বিজিবিকে সহযোগিতায় প্রস্তুত আছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ শান্তি প্রিয় এবং বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। কিন্তু কেউ যদি বন্ধুত্বের বেশে দাদাগিরি করতে চায় তবে এদেশের জনগণ সেটি মেনে নেয় না, নেবে না। এসময় তিনি ১৯৪৭-এর কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
সোমবার রাজধানীর শাহবাগে ‘ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে পুশইন, সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে’ ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত সমস্যা সমাধানে ন্যায্যতা ও সম্তার ভিত্তিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে আমরা সম্পর্ক চাই। এদেশের জনগণ কারো কোনো আধিপত্যবাদী আগ্রসনের কাছে মাথানথ করেনি, করবে না। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত আমাদের প্রতি আগ্রাসী আচরণ করছে। আমরা ভারতের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলেও ভারত আমাদের স্বাধীনতায় শ্রদ্ধাশীল নয়। ভারত ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের সাথে বন্ধুত্ব ছিন্নের বার্তা দিয়েছে। শহীদ ওসমান হাদীর খুনিকে আটকের পরও বাংলাদেশে ফেরত না দিয়ে ভারত বন্দী চুক্তি ভঙ্গ করেছে। তিনি ভারত সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনো দলের সঙ্গে নয় বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হলে এদেশের জনগণের পক্ষে ভূমিকা রাখতে হবে।
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, অভিন্ন আকাশের স্বপ্ন ১৯৪৭ সালে ভারত ভঙ্গ করেছিল। তারা মুসলিম কার্ড খেলা করে মুসলমানদের ওপর জুলুম- নির্যাতন চালিয়েছে। সেখান থেকেই আমরা অভিন্ন ভারতের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠতে বাধ্য হয়েছিলাম। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, যদি মুজিববাদের পথে হাঁটেন তবে আবারও মুজিব বাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, আমাদের দেশের সীমান্তে ভারত প্রতিদিন হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে, পুশইন করছে। জনগণ উদ্বিগ্ন হলেও আমাদের সরকার উদ্বিগ্ন নয়। সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলছে এটি সীমান্ত কিলিং নয়! তাহলে সীমান্ত কিলিং কাকে বলে সেটি স্পষ্ট করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টির) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে বুঝা দরকার সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের নামে যা ঘটছে তা আমাদের স্বাধীনতার ওপর হুমকি। তিনি ভারতের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের দাসত্বের আওয়ামী লীগ এদেশে আর ফিরবে না। এদেশের মানুষ বিপ্লবী, প্রতিবাদী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ না করলে এদেশের জনগণ রুখে দাঁড়াবে।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ভারতের দালাল হলেই নিয়োগ দেওয়া হয় নাকি নিয়োগ পাওয়ার পর এরা দালাল হয়ে যায়। আজকের পররাষ্ট্র মন্ত্রী কথা বলছেন দীপু মনির ভাষায়, হাসান মাহমুদের ভাষায়। তিনি, শুভেন্দু অধিকারী ও শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত দাবি করে তাদেরকে বাংলাদেশে পুশইন করার আহ্বান জানান।
খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমেদ আলী কাসেমী বলেন, ৪ মাস বয়সী শিশু সরকারের জন্য শাহবাগে আসার কথা নয়। কিন্তু আমরা বাধ্য হয়ে শাহবাগে আসতে হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সরকারের বিরুদ্ধে জনগণ শাহবাগে দাঁড়ালে ঐ সরকার টিকে থাকতে পারেনি, পারবে না। সরকার প্রধানের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনার উপদেষ্টাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি! এটি আপনার জন্য কতটা লজ্জা আর অপমানের চিন্তা করে দেখবেন।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল বাতেন আনসারী বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশে প্রবেশ করামাত্রই স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে টান দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অস্বীকার করেছে! তাই তাকে তলব করতে সরকারের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, বিজিবি- বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। কিন্তু বৈঠক পরবর্তী বিবৃতিতে সীমান্তে হত্যার পরবর্তীতে সীমান্তে মৃত্যু বলা হয়েছে! কারণ আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ভারতীয় মূখ্য মন্ত্রীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার নতজানু পররাষ্ট্র নীতি গ্রহন করায় ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি মদিনা সনদে দেশ পরিচালনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এখন মোদির সনদে দেশ পরিচালনা করছে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, যারাই মোদির সনদে চলেছে তাদের ঠিকানা ভারতে হয়েছে।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যঅডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন বলেন, ১৯৮০ সালের পর থেকে ভারত বাংলাদেশে কাউকে পুশইন করেনি। তারা আগে রাশিয়া সহ অন্য দেশে পুশইন করলেও এবার ভারত তাদের দেশের মুসলিম নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইন করছে!
জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন এবং উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বশির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ছিল আধিপত্যবাদের দোসর ফ্যাসিবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। জুলাইয়ে আকাঙ্খা ছিল আধিপত্যবাদের দোসর ফ্যাসিবাদের বিদায়ের পর সীমান্তে আর কোনো হত্যা হবে না। কিন্তু বিপ্লব পরবর্তী নতুন সরকারও ভারতীয় সেবাদাস সরকারের আবির্ভাব হয়েছে। ভারতের আগ্রসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে না পারলে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে ভারত চলে যেতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে, সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের প্রতিবাদে শাহবাগ শহীদ ওসমান হাদী চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি মৎস্য ভবন মোড়, জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে পল্টনে গিয়ে শেষ হয়। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা সহ সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা অংশগ্রহন করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

