টেকনাফে সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় নেজামে ইসলাম পার্টির শোক

টেকনাফে সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় নেজামে ইসলাম পার্টির শোক

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযানে সশস্ত্র পাচারকারীদের গুলিতে সেনাবাহিনীর তরুণ সদস্য মো. তিতাস শেখের নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেছেন, মানবপাচারের মতো ভয়ংকর অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে একজন দেশপ্রেমিক সেনাসদস্যের এই মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এ ঘটনা দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বেপরোয়া মনোভাবকে আবারও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।

শুক্রবার পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পার্টির সহকারী মহাসচিব হাজী আনোয়ারুল কবীর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আতিকুর রহমান সিদ্দিকী এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

মাওলানা মুসা বিন ইযহার বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, মানবপাচারকারীরা শুধু মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করছে না, তারা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য এক ভয়ংকর হুমকি হয়ে উঠেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখা এবং যৌথ বাহিনীর উদ্ধার অভিযানে সশস্ত্র হামলার ঘটনা প্রমাণ করে যে, এসব অপরাধী চক্র নির্মূলে আরও কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবপাচার, অপহরণ ও জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধ চিরতরে বন্ধ করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে হবে।

তিনি নিহত সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে দ্রুত তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব আরও বলেন, ‘একজন সেনাসদস্যের এই আত্মত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। মানবপাচারকারী চক্রের মূল হোতা, অর্থদাতা ও স্থানীয় সহযোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। শুধু চুনোপুঁটি ধরে দায় সারলে চলবে না, বরং এসব অপরাধী চক্রের শেকড় সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে পুরোপুরি উপড়ে ফেলতে হবে। দেশের সাধারণ নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও কঠোর অবস্থানের পরিচয় দিতে হবে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন