বেসরকারি সংস্থা এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের (ইএএসডি) জরিপের প্রকাশিত ফলাফল মতে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের ৭০ ভাগের পছন্দ বিএনপি। এছাড়া ১৯ ভাগ ভোটারের পছন্দ জামায়াতে ইসলামি ও ২.৬ ভাগ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে জরিপ চলাকালীন সময়ে রাজৈনিতক দলের জোট গঠন প্রক্রিয়া, শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকান্ড, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের মৃত্যুর ঘটনা জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মানসিকতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করে ইএএসডির গবেষক দল। তাদের মতে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বিশ্লেষণের চেয়ে তাৎক্ষণিক আবেগের প্রতিফলন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনিস্টিটউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)’র থ্রি-ডি সেমিনার হলে এক প্রেস কনফারেন্সে ইএএসডি’র এই জনমত জরিপ ফলাফল তুলে ধরেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হায়দার তালুকদার।
জরিপটিতে রাজধানীসহ দেশের ৬৮৪ ওয়ার্ড/ইউনিয়নের ২০ হাজার ৪৯৫ জন ভোটার অংশগ্রহণ করেন। যাদের মধ্যে ৭৫ ভাগ পুরুষ ও ২৫ ভাগ নারী।
জরিপটির প্রকাশিত ফলাফল মতে, রাজনৈতিক পছন্দের ক্ষেত্রে দেখা যায় সর্বোচ্চ ৭০ ভাগ ভোটার বিএনপিকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এর বিপরীতে ১৯ ভাগ সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামি এবং এনসিপি ২.৬ ভাগ সমর্থন নিয়ে রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। আর অন্যান্যদের মধ্যে জাতীয় পার্টির জনসমর্থন ১.৪ ভাগ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ০.১ ভাগ।
আবার লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির জনপ্রিয়তা বেশি। জরিপ বলছে, ৭১ ভাগ নারী ভোটার বিএনপিকে সমর্থন দিচ্ছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭৭ ভাগ ভোটার বিশ্বাস করেন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে। ৭৪ ভাগ ভোটার তাদের নিজ নিজ আসনে বিএনপি প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে মতামত ব্যক্ত করেছেন।
জরিপ মতে, আগে যেসব ভোটার আওয়ামীলীগকে ভোট দিত, তাদের বেশিরভাগের ঝোঁক এবার বিএনপির দিকে। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ৬০ ভাগ আওয়ামী ভোটার আগামী নির্বাচনে বিএনপি-কে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে, ২৫ ভাগ জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং বাকি ১৫ ভাগ অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে মিসমীর নাদিয়া নিভিন নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর মনে করেন, এই জনমত সুশাসনের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। ফাহিম মাশরুর তরুণদের এই রায়কে বাক-স্বাধীনতার স্পৃহা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং ইফতেখার মাহমুদ প্রান্তিক মানুষের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পরিশেষে, অনুষ্ঠানের সভাপতি ডা. কাজী সাইফউদ্দীন বেননূর বলেন, এই জন আকাঙ্ক্ষা আগামীর একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথ দেখাবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

