নোয়াখালীর হাতিয়ায় ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় স্বামীকে বেঁধে রেখে তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণ ও স্বামীকে বেদম মারধরের অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘নোয়াখালীর হাতিয়ায় চানন্দী ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট না দেওয়ার কারণে তিন সন্তানের জননীকে ঘরে ঢুকে ধর্ষণ ও তার পুরো পরিবারের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে স্থানীয় বিএনপির সন্ত্রাসীরা। ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিএনপির সন্ত্রাসীরা তার পরিবারের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে রহমান নামক এক বিএনপি নেতা ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ ও পরদিন সকালে পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে তার ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও শারীরিক নির্যাতন চালায়। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে একজন নারীকে এ ধরনের পৈশাচিক নির্যাতন মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আমরা এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।”
শিবির নেতারা আরো বলেন, “নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধীদলীয় সমর্থকদের ওপর অব্যাহতভাবে হামলা, বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, দখল এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ইতোমধ্যে মুন্সিগঞ্জ, বাগেরহাট ও ময়মনসিংহে অন্তত ৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্রশিবিরসহ ১১ দলীয় জোটের অন্তত দেড় হাজার মানুষকে আহত করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জানমালের ওপর এমন বেপরোয়া আক্রমণ নাগরিক নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তারা বলেন, “দুঃখজনক বিষয় হলো, একদিকে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শান্তির বাণী প্রচার করা হচ্ছে, অন্যদিকে গণমাধ্যমকে এক প্রকার ‘ব্ল্যাকআউট’ করে দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে এসব নৃশংসতা চালানো হচ্ছে। দৃশ্যত এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বিএনপির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ নতুন নয়। ২০০১ সালের নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় দলটির বিরুদ্ধে ৫ হাজার ৫৭১টি অভিযোগ ওঠে; নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পোলিং এজেন্ট হওয়ার কারণে পূর্ণিমা রাণীকে ধর্ষণসহ অসংখ্য নারী নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। চব্বিশের অভ্যুত্থান-পরবর্তী ষাটের অধিক নারী ধর্ষণের ঘটনা সংঘটিত করে তারা। ২০১৮ সালে ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় সুবর্ণচরে ৫ সন্তানের জননীকে ধর্ষণ আর আজ ধানের শীষে ভোট না দেওয়ায় নারী ধর্ষণ করে বিএনপিও নিজেদের আসল চরিত্র প্রকাশ করে দিয়েছে।”
শিবির নেতারা বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে জনগণ যখন একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র প্রত্যাশা করছে, তখন বিএনপির এমন লাগামহীন আচরণ নতুন ফ্যাসিবাদেরই বহিঃপ্রকাশ বলে আমরা মনে করি। আমরা হাতিয়ার এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। এছাড়াও ভোলার চরফ্যাশনে সন্তানদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ এসেছে, আমরা তারও বিচার দাবি করছি। একইসঙ্গে দেশব্যাপী চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা পালন করার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের জোর দাবি জানাচ্ছি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

