আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

নানা আয়োজনে ঢাবিতে পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস উদযাপিত

মাহির কাইয়ুম, ঢাবি

নানা আয়োজনে ঢাবিতে পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস উদযাপিত

শিমুল-পলাশের আগুনরঙা ফুল, আমের মুকুলের ম-ম ঘ্রাণ আর কোকিলের কুহুতানে প্রকৃতি জানিয়ে দিয়েছে—নির্বাচন-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে বসন্ত এসে গেছে। শীতের রিক্ততা মুছে পহেলা ফাল্গুনে প্রকৃতি ও মানুষের হৃদয় দুটোই সেজেছিল নতুন রঙে।
এ বছর বসন্ত এসেছে ভিন্ন এক বাস্তবতায়। তবুও উচ্ছ্বাসে কোনো ঘাটতি ছিল না। শনিবার একই সঙ্গে পালিত হয়েছে বসন্তবরণ ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ফলে ফাল্গুনের প্রথমদিন তরুণ-তরুণীদের ভালোবাসার জয়গানে মুখর ছিল চারপাশ।

গাছে গাছে ফুটেছে রঙিন ফুল। বাতাসে আর শীতের কাঁপুনি ছিল না, বরং ছিল আরামদায়ক উষ্ণতা। দূর থেকে ভেসে আসা ফুলের সুবাস মনকে করে তুলেছিল প্রফুল্ল। প্রকৃতির এই রূপান্তর যেন বারবার মনে করিয়ে দিয়েছে- ঋতুরাজ বসন্তের আগমন বরাবরই রাজকীয়।

বিজ্ঞাপন

বসন্ত শুধু প্রকৃতিতেই নয়, মানুষের মনেও এনেছে নতুনের বার্তা। নারীদের খোঁপায় ফুল, বাসন্তী শাড়ি, কপালে লাল টিপ—সব মিলিয়ে বসন্তের সাজে বসন্তকেই যেন হার মানিয়েছেন তারা।
পুরুষদের মাঝেও ছিল ফাল্গুনের ছোঁয়া। হলুদ ও রঙিন পাঞ্জাবিতে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। বসন্ত আর ভালোবাসা দিবস হাত ধরাধরি করে আসায় আনন্দের মাত্রা ছিল দ্বিগুণ।

তবে এ বছর বসন্ত উৎসবের আবহ ছিল কিছুটা ভিন্ন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতা আর একুশের বইমেলা না থাকায় ফাগুনের রঙ আর নতুন বইয়ের ঘ্রাণ একসঙ্গে পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন নগরবাসী। তবুও বসন্তবরণ থেমে থাকেনি।

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, প্রতি বছর পহেলা ফাল্গুন ‘জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ’ বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে। এ বছরও সংগঠনটির উদ্যোগে ‘বসন্ত উৎসব ১৪৩২’ পালিত হয়েছে। তবে আগের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় নয়, এ বছর উৎসবের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে।

সকালে বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীদের সমবেত সংগীতের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। দিনভর নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনা, একক সংগীত, আবৃত্তি এবং শিশু-কিশোর ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাজানো হয় অনুষ্ঠানসূচি। বসন্ত কথন পর্বে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি স্থপতি সফিউদ্দিন আহমদ। বক্তব্য দেন সহসভাপতি কাজল দেবনাথ ও সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট।

বসন্ত এলে প্রকৃতিও যেন প্রেমে মেতে ওঠে। নতুন পাতা, ফুল আর দখিনা বাতাস—সবই প্রকৃতির প্রেমের প্রকাশ। আম্রকাননে ম-ম গন্ধ, ভ্রমরের গুনগুনানি আর প্রজাপতির ওড়াউড়ি—সব মিলিয়ে বসন্ত যেন মিলনেরই ডাক। কবির ভাষায়, বসন্ত শুধু ফুলের নয়, হৃদয়েরও উৎসব। তাইতো কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন—
‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে…।’ তবে ইটপাথরের নগরীতে বসন্ত অনেকটাই উৎসবকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে।

শহরের যান্ত্রিকতায় বসন্তের রাজকীয়তা পুরোটা ধরা পড়ে না। গ্রামে গেলে বোঝা যায়, কেন বসন্তকে বলা হয় ‘ঋতুরাজ’। সেখানে কোনো কৃত্রিমতা নেই; ঝোপের বুনোফুল, পথের ধারে শিমুলগাছ, পুকুরপাড়ের বাতাস—সবই বসন্তের ক্যানভাস।

বসন্তবরণ ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিল মানুষের ঢল। ঢাবির চারুকলা অনুষদ, টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রবীন্দ্র সরোবর, হাতিরঝিল ও রমনা পার্ক—সবখানেই ছিল তারুণ্যের সরব উপস্থিতি।

ঢাবিতে বসন্ত উপভোগ করতে আসা এক প্রেমিক যুগল আমার দেশকে বলেন, দুদিন আগে ভোট উৎসবের পর বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবস একসঙ্গে পালিত হওয়ায় নতুন এক আবহ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, এবারের বসন্ত যেন বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার বার্তা দিচ্ছে—যে বাংলাদেশ হবে বসন্তের মতো প্রাণবন্ত, আর ভালোবাসা দিবসের মতো সৌহার্দে সিক্ত।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন