আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আধিপত্য বিস্তার করেছে খুলনা ও রংপুর বিভাগে

চার বিভাগে জামায়াত ইসলামীর ভরাডুবি

বিশেষ প্রতিনিধি

চার বিভাগে জামায়াত ইসলামীর ভরাডুবি

সংসদ নির্বাচনে সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভরাডুবি হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর। ঢাকা বিভাগের আসনগুলোর মধ্যে রাজধানীতে কিছুটা ভালো করলেও অন্যান্য জেলাগুলোতে দলটির ফল বিপর্যয় ঘটেছে। জামায়াতের পাশাপাশি এই চারটি বিভাগে ১১ দলভুক্ত শরিকরাও ভালো ফল পায়নি। সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে একটিতেও জামায়াত জিততে পারেনি। তাদের শরিক খেলাফত মজলিস এ বিভাগের একটি মাত্র আসনে জয়ী হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। তবে, জামায়াতে ইসলামী আধিপত্য বিস্তার করেছে খুলনা ও রংপুর বিভাগে। এ দুটি বিভাগের ৬৯টি আসনের মধ্যে ৩৯টি আসনে জামায়াত জোট জয়ী হয়েছে। বেশ কয়েকটি আসনে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ১০টি আসন রেখে বাকিগুলো শরিকদের ছেড়ে দেয়। বাকি ৯টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ৩টি এবং খেলাফত মজলিসতে ৬টি আসন ছেড়ে দেয়। এর মধ্যে সিলেট-৫ আসনের খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসান জয়লাভ করেছেন। এসব আসনের মধ্যে সিলেট-৬ ও মৌলভীবাজার-১ ছাড়া অন্য কোথাও বড় ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও গড়ে তুলতে পারেনি জামায়াত। এই দুটি আসনে আট হাজার ও ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়। একাধিক আসনে জামায়াতের প্রার্থীর চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ভোট পেয়ে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হয়েছে।

হবিগঞ্জ-৪ আসনে ১১ দলভুক্ত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ আবদুল কাদের এবং সুনামগঞ্জ-৩ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ শাহীনূর পাশা চৌধুরীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

এদিকে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের মধ্যে ১৮টি বিএনপি জয়ী হয়েছে। জামায়াত ইসলামী জিতেছে দুটিতে ও তার জোটভুক্ত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি আসনে জয়লাভ করেছে। বাকি একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় পেয়েছেন। এ বিভাগের বেশিরভাগ আসনে বিজয়ী বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের ভোটের ব্যবধানও অনেক। কোনো কোনো আসনে জামায়াতের প্রার্থীর তিন গুণেরও বেশি ভোট পেয়েছে বিএনপির প্রার্থী। প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে এই বিভাগের একটি আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।

বরিশাল বিভাগে ২১টির মধ্যে বিএনপি ১৭টিতে এবং তাদের জোটভুক্ত বিজেপি একটি এবং জামায়াত দুটি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে একটি আসনে জিতেছে। এই জেলার একটি আসনে জামায়াত ইসলামী ও তার জোটভুক্ত কোনো দলের প্রার্থী ছিল না। বিভাগের তিনটি আসনে দ্বিতীয় স্থানও পায়নি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।

ঢাকা বিভাগের ৭০টি আসনের মধ্যে বিএনপি ৫৭টি আসনে ও ১১ দলীয় জোট ১১টি আসনে জিতেছে। এর মধ্যে জামায়াত ইসলামী ৮টি এনসিপি ২টি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একটিতে জিতেছে। বাকি ২টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছে।

এ বিভাগের আসনগুলোর মধ্যে ঢাকা শহরে তুলনামূলকভাবে জামায়াত জোট ভালো করেছে। রাজধানীর ১৫টি আসনের মধ্যে জামায়াত ইসলামী ৬টি এবং তাদের শরিক এনসিপি একটি আসনে জিতেছে। এছাড়া চারটি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে।

এ বিভাগের ১৩টি জেলার মধ্যে মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে জামায়াত বা তার জোটভুক্ত কোনো দল জিততে পারেনি। নারায়ণগঞ্জ (এনসিপি), ফরিদপুর (জামায়াত), গাজীপুর (জামায়াত) ও মাদারীপুর (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) থেকে একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। রাজধানী ছাড়া ঢাকা বিভাগের বেশিরভাগ আসনে ভোটের ব্যবধান খুব বেশি। ১০টি আসনে জামায়াত বা তার জোটের কেউ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীও হতে পারেননি।

চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৮টি আসনের মধ্যে ৪৮টিতে বিএনপি ও একটিতে জোটভুক্ত গণসংহতি আন্দোলন, তিনটিতে জামায়াত, দুটিতে এনসিপি ও তিনটি স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতেছে। বিভাগের অন্য দুটি আসনে বিএনপি জিতলেও মামলাজনিত কারণে ফলাফল স্থগিত রয়েছে।

এ বিভাগের কক্সবাজার-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ও দলটির দায়িত্বশীল নেতা হামিদুর রহমান আযাদ একাধিকবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হলেও এবার ৩৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন।

অন্যদিকে, জামায়াত ইসলামী ও তার জোটভুক্ত দলগুলো রংপুর বিভাগে ভালো ফলাফল করেছে। বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে এই বিভাগে জামায়াত জোট পেয়েছে ১৮টি আসন, বিএনপি জোট পেয়েছে ১৪টি এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছে। জামায়াত জোটের ১৮টি আসনের মধ্যে ১৬টি জামায়াত ও দুটি এনসিপি পেয়েছে। রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে ২৮টি বিএনপি এবং ১১টি আসন পেয়েছে জামায়াত ইসলামী। এই বিভাগে দুই দলের বাইরে কোনো প্রার্থী জয়লাভ করেনি।

সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ইসলামী একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে খুলনা বিভাগে। বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে ২৫টিতে জামায়াত জয়লাভ করেছে। বাকি ১১টিতে জিতেছে বিএনপি। এ বিভাগের সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার সব আসনই পেয়েছে জামায়াত ইসলামী। এছাড়া যশোরে ৬টির মধ্যে ৫টি, বাগেরহাটে চারটির মধ্যে ৩টি ও কুষ্টিয়ায় চারটির মধ্যে ৩টিতে জামায়াত জিতেছে। বিভাগের কয়েকটি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের সঙ্গে জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। তবে, জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া মুহ. গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫ আসনে নির্বাচন করে বিএনপির প্রার্থী আলি আসগর লবির কাছে আড়াই হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। পরওয়ার ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে জয়লাভ করেছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...