জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাসের মাধ্যমে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয় ভেঙে দিয়ে বিচারিক স্বায়ত্তশাসন হরণ করা হয়েছে জানিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে শিবির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বুকের রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদ বিদায় করা এদেশের সচেতন ছাত্রসমাজ নতুন কোনো লেবাসে স্বৈরতন্ত্রের পুনরুত্থান বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নস্যাতের কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করবে না। আমরা সরকারকে এই হঠকারী সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করে স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্বহাল করার জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায়, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনায় বলীয়ান ছাত্র-জনতা রাজপথে আবারও তীব্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে, ইনশাআল্লাহ।
তারা বলেন, একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী বিচার বিভাগ ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারির মাধ্যমে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার যে ঐতিহাসিক পথ উন্মোচিত হয়েছিল, মঙ্গলবার সংসদের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তার অপমৃত্যু ঘটানো হয়েছে। বিচার বিভাগকে পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরিয়ে নেওয়ার বিএনপি সরকারের এই পদক্ষেপ বিচার ব্যবস্থার ওপর নির্বাহী বিভাগের নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং আদালতকে পুনরায় দলীয় আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে রূপদানের এক অপচেষ্টা।
শিবির নেতারা বলেন, বিচারকদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, বদলি ও নিয়োগের ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগের হাতে ন্যস্ত করার এই আত্মঘাতী প্রক্রিয়া দেশে আবারও ফ্যাসিবাদের অন্ধকার অধ্যায়ের চারণভূমি তৈরি করবে। অতীতে আমরা দেখেছি, কীভাবে আদালতকে দলীয় হাতিয়ার বানিয়ে গুম, খুন, ক্রসফায়ার এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের মতো ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় জুলুমকে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রদ করার এই সিদ্ধান্ত সেই পুরোনো স্বৈরতান্ত্রিক অপসংস্কৃতি ও ভীতিকর পরিবেশের পুনরাবৃত্তির শঙ্কাকে তীব্র করে তুলেছে।
তারা আরো বলেন, স্বাধীন বিচার বিভাগকে অবরুদ্ধ করার এই গণবিরোধী উদ্যোগ দেশের প্রায় ৬৯ শতাংশ ভোটারের বিপুল সমর্থনে অর্জিত ঐতিহাসিক গণভোটের রায় এবং রাষ্ট্র সংস্কারের মূল রূপরেখা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’কে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করার শামিল। আইনি মারপ্যাঁচের অজুহাতে জনগণের এই স্পষ্ট ম্যান্ডেটকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা মূলত জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সাথে এক ধরনের প্রতারণা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

