সময় তখন সকাল তখন ৭টা। চারপাশে উৎসুক মানুষের ভিড়। সাইরেন বাজিয়ে একেরপর এক প্রবেশ করছে অ্যাম্বুলেন্স। সবাই নির্বাহ তাকিয়ে। এরপর অ্যাম্বুলেন্স থেকে একে একে নামানো হয় চারটি কফিন। কারও মুখে কোনো ভাষা নেই, যেন পিনপতন নীরবতা। কেউ ভাবেনি আপন চার সহোদর একসঙ্গে দেশে ফিরবে, তাও কফিনবন্দি হয়ে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর গ্রামে এভাবেই শোকে কাতর হয়ে যায় এলাকাবাসী।
চারদিকে শুধু কান্না আর আহাজারি। বিলাপে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। ওমানে বিষাক্ত গ্যাসে নিহত একই পরিবারের চার ভাইয়ের লাশ বুধবার ভোরে চারটি অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। নিথর দেহগুলো লালানগরের বান্দাবাজার পাড়ার আবদুল মজিদের বাড়িতে পৌঁছার পর বাকস্তব্ধ পুরো এলাকা। একসঙ্গে একই পরিবারের চার ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু লালানগরের ইতিহাসে আগে কখনো ঘটেনি।
সকাল ১১টায় হোসনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চার ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি, কোথাও যেন তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে তাদের দাফন করা হয়েছে। জানাযার ইমামতি করেন তাদের একমাত্র ছোট ভাই মো. এনাম।
ওমানে মারা যাওয়া চার ভাই হলেন- রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তাদের বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বন্দারাজারপাড়ার প্রয়াত আব্দুল মজিদের ছেলে। তাদের আরেক ভাই মোহাম্মদ এনাম শুধু জীবিত আছেন। জীবিকার সন্ধানে তারা দীর্ঘদিন ধরে ওমানে কর্মরত ছিলেন।
এদিকে তাদের গর্ভধারিণী মাকে এখনো জানানো হয়নি, চার ভাই আর নেই। দুইজনের কথা জানলেও চারজনের কথা এখনো শোনানো হয়নি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওমানের আল মুলাদ্দা এলাকার আল মোসানা স্টেট অব আল বাতিনাহতে একটি গাড়ির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়।
জানা যায়, চার ভাইয়ের মধ্যে বড় দুই ভাই ওমানের বারাকা শহরে থাকতেন। কাজের সূত্রে আর দুই ভাই ভিন্ন ভিন্ন শহরে থাকতেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বারকায় চার ভাই একত্র হয়েছিলেন বিয়ের বাজার করতে। পরে তারা মুলাদ্দাহা শহরে যান। ওমান পুলিশের ধারণা, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এগজোস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, ‘চার ভাইয়ের একই সঙ্গে মৃত্যু খুবই মর্মান্তিক। এখন মৃত্যু পরবর্তী সময়ে সরকারিভাবে প্রবাসীদের জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা তাদের পরিবার প্রাপ্য, সেটা দ্রুত দেওয়ার ব্যবস্থা আমরা করেছি। এর পরও উনাদের পরিবারের পাশে সরকারিভাবে আমরা থাকব। তাদের লোকাল প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
এর আগে গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে চারজনের লাশ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে লাশ গ্রহণ করেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

