চট্টগ্রামে পশুর হাট নিয়ে ইজারাদারদের দুই গ্রুপে বিরোধ

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে পশুর হাট নিয়ে ইজারাদারদের দুই গ্রুপে বিরোধ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় ৩ কিলোমিটারের মধ্যে ৪টি কোরবানির পশুর হাটের অনুমোদন নিয়ে ইজারাদারদের দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ফকিন্নির হাটে প্রথমবারের মতো টানা পাঁচ দিন অস্থায়ী পশুর হাটকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষই মহড়া দিচ্ছে নিয়মিত।

বিজ্ঞাপন

সূত্র জানিয়েছে, উপজেলার মইজ্জারটেক থেকে ফাজিল খাঁরহাট পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এলাকায় ৪টি কোরবানির পশুর হাট বসে দীর্ঘদিন ধরে। এগুলো হলো মইজ্জ্যারটেক পশু বাজার, কলেজ বাজার, ফকিরন্নিরহাট ও ফাজিল খাঁর হাট পশুর বাজার।

মইজ্জারটেক বাজার পরিচালনা করেন মো. আলমগীর হোসেন, কলেজবাজার পরিচালনায় আছেন মোহাম্মদ জসিম, ফাজিল খাঁর হাট পরিচালনা করেন শাহেদুল আলম টিটু আর ফকিন্নিরহাট অস্থায়ী গরুর বাজার পরিচালনা করছেন মোহাম্মদ রাজু আহমেদ।

এরমধ্যে মইজ্জারটেক পশু বাজার সবচেয়ে বড়। সপ্তাহে ৭ দিন এই বাজারে পশু বেচাকেনা হয়। অন্য তিনটি বাজার সপ্তাহে দুই দিন করে বসে। প্রথমবারের মতো এই বছর জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে কোরবানির আগে টানা ৫ দিন বাজার বসানোর অনুমতি নিয়েছে ফকিরন্নীরহাট পশু বাজার কর্তৃপক্ষ।

বাজার ইজারা প্রক্রিয়ার শুরুতে তিন দিন বাজার বসানোর অনুমতি চেয়েছিল ইজারাদার রাজু আহমেদ।

জেলা প্রশাসন থেকে ২০ মে, ২৪ মে ও ২৭ মে ফকিরন্নিরহাটে বাজার বসানোর অনুমতি দিয়ে চিঠি ইস্যু করে। কিন্তু পরবর্তিতে আরেকটি চিঠিতে ২৩ থেকে ২৭ মে পর্যন্ত বাজার বসানোর অনুমতি দিয়ে আরেকটি চিঠি ইস্যু করে জেলা প্রশাসন। আর এতেই বাজারের ইজারাদারদের সঙ্গে তৈরি হয়েছে বিরোধ।

ফকিন্নিরহাট বাজারের ইজারাদার রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছেন ওই তিন ইজাদার। প্রতিদিন লোকজন নিয়ে মহড়াও দিচ্ছে উভয়পক্ষ।

স্থানীয়দের দাবি, মূলত কোরবানির পশু বেচাকেনার সময় হাসিল আদায়কে টার্গেট করেই প্রতিটি বাজারের ইজারা নেয় ইজারাদাররা। আর বাজারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও এসব বাজারের সঙ্গে নামে-বেনামে জড়িয়ে পড়েন। ফকিন্নিরহাট বাজার ৫ দিন বসালে আশপাশে আরো তিনটি বাজার ইজারা নেয়া ব্যক্তিদের স্বার্থে আঘাত লাগবে। আর এই কারণেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সরকার বিভাগের চট্টগ্রামের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান জানান, ফকিরনীর হাট সপ্তাহে দুই দিন থেকে বাড়িয়ে পাঁচদিন করা হয়েছে। এ ধরনের অনুমতি দেয়ার এখতিয়ার জেলা প্রশাসকের রয়েছে। তিনি চাইলে সময় বৃদ্ধি করতে পারেন।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন