নিশ্চিত পরাজয় বুঝে অস্ত্রধারী লেলিয়ে প্রচারণা বন্ধের চেষ্টা হচ্ছে: দেলাওয়ার হোসেন

নিশ্চিত পরাজয় বুঝে অস্ত্রধারী লেলিয়ে প্রচারণা বন্ধের চেষ্টা হচ্ছে: দেলাওয়ার হোসেন

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেছেন, নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনি প্রচারণা বন্ধের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার সকালে ভুল্লী উপজেলার শুখানপুকুরী ইউনিয়নের সেনপাড়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনি উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “দাঁড়িপাল্লা মার্কার সমর্থনে ঠাকুরগাঁওয়ের পাড়া-মহল্লায় যেভাবে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা দেখে সন্ত্রাসীদের গডফাদারের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। এ জন্যই দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় যত বেশি বাধা আসবে, জনগণ তত বেশি দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়বে। জনগণ নির্বাচনি মাঠে নামতে শুরু করলে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের গডফাদারদের পরাজয় ঠেকানো যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আসন্ন নির্বাচনকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, আগামী ২৯ অক্টোবর মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে ঠাকুরগাঁওকে শান্তির নীড় হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নির্বাচিত হলে সমাজে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি থাকবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঠাকুরগাঁওবাসীকে কারও মিষ্টি কথায় এবং মিথ্যা প্রলোভন বা প্ররোচনায় প্রতারিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “যখন মাদক কারবারি বলবে সমাজে মাদক থাকবে না, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজদের গডফাদার বলবে সন্ত্রাস থাকবে না, তখন বুঝে নিতে হবে সর্ষের ভেতরে ভূত আছে। এরা নির্বাচনের বৈতরণি পার হওয়ার জন্য জনগণকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা করে।”

তিনি আরও বলেন, যে দলের প্রধান জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকার গঠনের পর গণভোটের রায় মেনে নেয়নি এবং যে দলের শীর্ষ নেতারা ওই প্রতিশ্রুতিকে নির্বাচনি বৈতরণি পার হওয়ার কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন, সেই দলের প্রতীকে আর ভোট দেওয়া যায় না। আবারও সেই দলের প্রতীকে ভোট দিলে জনগণ প্রতারিত হবে এবং জুলুম ও শোষণের শিকার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিলে জনগণের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরে আসবে এবং সবার সমান অধিকার নিশ্চিত হবে। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের অবসান ঘটাতে একবার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, যারা জনগণের ভোটে বিশ্বাসী নয় এবং নির্বাচনি কারসাজির মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওবাসীর সংসদ সদস্য হতে চায়, তারাই প্রতিপক্ষের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করে।

তিনি অভিযোগ করেন, একজন প্রার্থী মসজিদে নামাজ আদায় করে বাইরে আসার পর অন্য প্রার্থীর সমর্থনে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা হামলার চেষ্টা করে এবং নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা দেয়। এমন ঘটনা থেকে বোঝা যায়, ওই প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজেরা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাশেদ প্রধান আরও বলেন, কোনো সমাজে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের গডফাদারদের হাতে নেতৃত্ব চলে গেলে সেই সমাজের মানুষ জুলুম ও শোষণের শিকার হয়। এসব থেকে মুক্তি পেতে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঠাকুরগাঁও গড়ার জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শুখানপুকুরী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আবুল কাশেমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে আরো বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খলিলুর রহমান। এ সময় স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন