গভীর রাতে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে জনগণের ওপর নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। তিনি এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে জনদুর্ভোগ লাঘবে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, জনগণ যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি ও গ্যাস সংকট, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং শিল্প-কারখানার স্থবিরতায় দিশেহারা, ঠিক সেই সময়ে গভীর রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী। এর প্রভাব নিত্যপণ্য, কৃষি, পরিবহন ও শিল্প খাতে ব্যাপকভাবে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব জনগণের কষ্ট কমানো। কিন্তু বারবার জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে মানুষের জীবন আরো কঠিন করে তোলা হচ্ছে। জনগণ যখন স্বস্তি চায়, তখন তাদের ওপর নতুন বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গভীর রাতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া জনগণের সঙ্গে প্রহসনের শামিল।
মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, দেশের মানুষ এখন বহুমুখী সংকটের মুখোমুখি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। হত্যা, অপহরণ ও বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় জনমনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে শিল্প ও উৎপাদন খাতও নানা সমস্যায় জর্জরিত। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের দায়িত্ব ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার পরিবর্তে নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, জনগণের মতামত ও বাস্তব পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তই স্থায়ী জনসমর্থন তৈরি করতে পারে না। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে উন্নয়নের কথা বলা যায়। কিন্তু মানুষের কষ্টের বাস্তবতা আড়াল করা যায় না।
বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, জনগণের পকেটে হাত দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি পরিহার করতে হবে। মানুষের কষ্ট, ক্ষোভ ও দুর্ভোগকে অবহেলা করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারে না। সরকারকে সতর্ক হতে হবে এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


