ভারতের আসামে এক হাজার ১০০ মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ ও বহু মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে খেলাফত মজলিস।
গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে এ নিন্দা জানানো হয়।
সংগঠনের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় বৈঠকে নেতারা বলেন, বনভূমি দখলমুক্ত করার নামে আসামের বিজেপিদলীয় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বেছে বেছে বাংলাভাষী মুসলমানদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে এবং তাঁদের ইবাদতের স্থান মসজিদসমূহ ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। যাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, তারা বংশানুক্রমে ভারতের স্বাধীনতার আগ থেকেই সেখানে বসবাস করে আসছেন।
এ ছাড়া যেসব মসজিদ ভাঙা হয়েছে, তার মধ্যে বেশ কিছু মসজিদ অর্ধশতাব্দী আগে নির্মিত। এমনকি দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের কাছে প্রায় দেড় শ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ বন্ধ করার অপচেষ্টাও চলছে। এভাবে সারা ভারতে মুসলমানদের জানমাল ও মসজিদ-মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে নির্মূল অভিযান চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নেতারা।
খেলাফত মজলিস নেতারা আরো বলেন, ভারতের মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিজেপি ও আরএসএসের সাম্প্রদায়িক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব কর্মকাণ্ড নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়কে ধর্মীয় উৎসব পালনে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে, অথচ ভারত সরকার তাদের সংখ্যালঘু মুসলমানদের জীবন ও সম্পদ ধ্বংসে মেতে উঠেছে। ভারত সরকারকে অবিলম্বে মুসলিম নির্যাতন ও নির্মূল অভিযান বন্ধ করতে হবে; অন্যথায় এই রাষ্ট্রকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তাঁরা।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন ও মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাহাব উদ্দিন আহমদ খন্দকার, মুফতি আবদুল হক আমিনী, নুর হোসেন, হাফেজ মাওলানা নূরুল হক, মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ, ড. আবু মুসাইব, মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া, আমির আলী হাওলাদার, মাওলানা রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


