‘ছায়া সিটি করপোরেশন প্রশাসন’ গঠনের ঘোষণা সেলিম উদ্দিনের

‘ছায়া সিটি করপোরেশন প্রশাসন’ গঠনের ঘোষণা সেলিম উদ্দিনের
‘ছায়া সিটি করপোরেশন প্রশাসন’ গঠনের ঘোষণা সেলিম উদ্দিনের। ছবি: সংগৃহীত

বিরোধীদলের ছায়া মন্ত্রিসভা বা সরকারের মত ছায়া সিটি করপোরেশন প্রশাসন গঠন করার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিরোধীদল ছায়া সরকার গঠন করেছে। একইভাবে আমরা ‘ছায়া সিটি করপোরেশন প্রশাসন’ গঠন করব। তবে সেটা কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, জনগণের সামনে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, কাজের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনার নমুনা তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের চলমান ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির সর্বশেষ তথ্য জানাতে এবং ঢাকাসহ দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই সাধারণ নাগরিকদের হাতে ঝাড়ু তুলে নিতে হচ্ছে- মন্তব্য করেছে সেলিম উদ্দিন বলেন, আমাদের কেন শহরের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামতে হলো? এটা কি সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়? নাগরিকদের যখন নিজেদের হাতে ঝাড়ু নিতে হয়, তখন বুঝতে হবে প্রশাসন ব্যর্থ।

সেলিম উদ্দিন বলেন, প্রতিবছর একই সমস্যা বারবার ফিরে আসছে। অনেক কিছু কাগজে-কলমে হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক জবাবদিহির যে শৃঙ্খল থাকা প্রয়োজন, তা ভেঙে পড়েছে।

তিনি ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি ঢাকা শহরের পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সিটি করপোরেশনের জবাবদিহি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তার অবস্থান জানান।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট প্রকাশিত খোলা চিঠিতেও তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাজেট, ওয়ার্ডভিত্তিক বর্জ্য অপসারণের পারফরম্যান্স, অভিযোগ নিষ্পত্তির হার এবং প্রতিবছর একই সংকট ফিরে আসার কারণসহ পাঁচটি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট জবাব দাবি করেছিলেন।

জাতীয় নির্বাচন ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, নির্বাচন হলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে—এমন কথা বলা হলেও বর্তমান ক্ষমতাসীনরা তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকাবাসী এর আগে এমন লোডশেডিং দেখেনি।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হলেও এখন আর কোনো ‘মেকানিজম’ কাজে দেবে না। যত সময় নেওয়া হোক না কেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন আর বিলম্ব করা যাবে না। দ্রুত সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিতে হবে—এটাই আমাদের পরিষ্কার দাবি। সবার আগে সিটি নির্বাচন চাই।

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, মাজাভাঙা নির্বাচন কমিশন আমরা চাই না। কারও পা-চাটা ব্যক্তি হবেন না। চাটাচাটি বাদ দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ান। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোনো ধরনের ব্যর্থতা কিংবা কারচুপির চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান কোনো রাজনৈতিক পয়েন্ট স্কোর করার কর্মসূচি নয়; বরং নাগরিক দায়িত্ব ও জবাবদিহির প্রশ্ন থেকেই তারা মাঠে নেমেছেন।

‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তিন ধরনের ময়লা আলাদাভাবে রাখার জন্য বিন স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, আমরা যদি ঢাকা সিটির দায়িত্ব পাই, তাহলে সরকার পুরো বিশ্বে তা নিয়ে গর্ব করবে। তিনি বলেন,ঢাকা শহরে কোনো বেকার যুবক থাকবে না।

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়ন দেখতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীকে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়ে দেখুক। দায়িত্ব পেলে এমন উন্নয়ন করা হবে, যাতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারেন বলে তিনি দাবি করেন।

ঢাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন,“শুধু দেখার জন্য হলেও জামায়াতকে পাঁচ বছর সিটির দায়িত্ব দিন। সরকার দেশ চালাক, আমরা ঢাকা সিটিকে উন্নত ও সমৃদ্ধ নগরীতে গড়ে তুলি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারি মুহাম্মদ আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন