নেপাল সীমান্তে উদ্ধার অভিযান ফের চালু করল চীন

নেপাল সীমান্তে উদ্ধার অভিযান ফের চালু করল চীন

নতুন করে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিব্বত অংশে নিজেদের উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল চীন। বুধবার চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় ভূমিধসে শত শত মানুষ নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তখন হ্রদটির পানি সাময়িকভাবে উপচে পড়েছিল। পরে পানি উপচে পড়া বন্ধ হয়েছে এবং তিব্বতে উদ্ধার অভিযান আবার শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য হ্রদের কাছে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজও শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে টানা বৃষ্টি ও অনিশ্চিত আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। নেপালের সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র পরিস্থিতিকে নিজের জীবনে দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

উদ্ধারকারী দলগুলো এখন নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি প্রাকৃতিক বাঁধে তৈরি হ্রদের পানির স্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পানি ফের উপচে পড়লে নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

তিব্বতেও বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে সেখানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৫৮ জন এখনো নিখোঁজ। একই সময়ে ৫৫৫ পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এদিকে নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, এখনো ৯০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ ৫৩৭ জন বিদেশি নাগরিকের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যাদের অবস্থান এখনো জানা যায়নি। তাদের মধ্যে ভারতের ১৭৮, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫, ইউক্রেনের ৫৩, মালয়েশিয়ার ৫১, অস্ট্রেলিয়ার ৩৩ এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ নাগরিক রয়েছেন। নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে প্রায় ৯০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১১৯ জন পর্যটক রয়েছেন।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জরুরি প্রকৌশল দলগুলো কাজ করছে। নিখোঁজদের সন্ধানে ড্রোনের মাধ্যমে ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরি, তাপ শনাক্তকারী প্রযুক্তি এবং সরাসরি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং পানির স্তর স্বাভাবিক হওয়ার পর পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন