ফেনীতে পৃথক দুই সড়ক দুর্ঘটনায় ৪জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ৫ জন। শুক্রবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুহুরীগঞ্জ ও মহিপাল এলাকায় পৃথক এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-চট্টগ্রামের বোটবাজার মইজ্জারটেক এলাকার মৃত সফর আলীর ছেলে কাভার্ডভ্যান চালক আব্দুর রহিম (৫০) ও কেরানীগঞ্জের পারগেন্ডারিয়া এলাকার সফি মিয়ার ছেলে বাসচালক আবুল হোসেন (৬২)
এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার জয়নন্দীপুর এলাকার আবদুল হাকিমের ছেলে বাস যাত্রী মো. তাবারক আলী ফটিকের (৫৬)। বেলা ২টা পর্যন্ত নিহত অপর ১ জন ও আহত ৫ জনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
ফাজিলপুর হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল ৭টার দিকে জেলার ছাগলনাইয়ার মুহুরীগঞ্জ দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাভার্ডভ্যান অপর একটি লং ভেহিক্যালের পেছনে বেঁধে সরানোর সরিয়ে নিতে চেষ্টা করছিলেন চালক ও হেলপার।
এ সময় চট্টগ্রামগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাস এসে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে চালক- হেলপারসহ ৪ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এর মধ্যে কাভার্ডভ্যানের চালক, হেলপার ও ইউনিক বাসের চালককে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত এক ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এদিন সকাল ৮টার দিকে মহাসড়কের মহিপাল এলাকায় একটি বাসের পেছনে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় তাবারক আলী ফটিক নামে এক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানায়, চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী 'পাতা পরিবহনের' একটি বাস মহিলাল ফ্লাইওভারের উত্তর পাশে যাত্রা বিরতি দেন।
এসময় বাসের কয়েকজন যাত্রী বাইরে নেমে আসেন।একপর্যায়ে বাসটির পেছনে দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যান ধাক্কা দেয়। তখন সামনের সড়কে থাকা যাত্রী ফটিককে বাসটি চাপা দেয়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি নিহত হন।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডা. গোলাম নবী বলেন, পৃথক দুই সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৮ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৩জনকে মৃত ঘোষণা করে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকী ৫জনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা-চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।
জেলার ফাজিলপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আবু নোমান বলেন,মুহুরিগঞ্জের ঘটনায় নিহত ৩ জনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস, কাভার্ডভ্যান ও লং ভেহিক্যাল পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।হতাহতদের পরিচয় শনাক্তে পিবিআই কাজ করছে।
মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক মাজেদুল হক বলেন, মহিপালের ঘটনায় নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পাতা পরিবহনের বাসটি পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় একটি কাভার্ডভ্যান পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

