উন্নয়নকাজে বাধা দিচ্ছে পরাজিত প্রার্থীর লোকেরা: জামায়াত এমপি

উন্নয়নকাজে বাধা দিচ্ছে পরাজিত প্রার্থীর লোকেরা: জামায়াত এমপি

ঢাকা-১৬ নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নকাজে পরাজিত প্রার্থীর দল বিএনপির লোকের বাধা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি বিহারি ক্যাম্পে মৃতদেহ গোসলখানা নির্মাণকাজে বাধা ও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি। এক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতে ইসলামীর এই এমপি।

মঙ্গলবার দুপুরে মিরপুরে ফুডভ্যালি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের বিহারি ক্যাম্পের কয়েকজন নেতা জানান, সেখানে কেউ মারা গেলে গোসল করানো নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। বিষয়টির সমাধানের জন্য তাদের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা বিহারি ক্যাম্পের ময়লা ফেলার একটি জায়গা পরিষ্কার করে মৃতদের গোসলখানা তৈরির উদ্যোগ নেই। ব্যক্তিগত আর্থিক জোগানে সেখানে দেয়াল তৈরি করা হয়। কিন্তু বিহারিদের মধ্যে সরকারি দল-সমর্থক কেউ কেউ সেখানে পানির পাম্প করতে চান। অথচ পাশেই পানির পাম্প থাকায় সেখানে তার প্রয়োজন নেই বলে এলাকাবাসী গোসলখানার পক্ষেই শক্ত অবস্থান নেন। গত ২৯ আগস্ট সরকারি দলের লোকেরা বাইরে থেকে সেখানে উসকানি সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তিনটি মোটরসাইকেলে বিএনপির লোকেরা এসে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে বিহারি ক্যাম্পের লোকেরা সেখানে শক্ত অবস্থান নিলে বিএনপির অস্ত্রধারীরাও সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা সাধারণ বিহারিদের ওপর হামলা চালায়। এতে প্রায় ২৫-৩০ জন সাধারণ মানুষ আহত হন এবং নির্মাণাধীন স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, এই হামলার সময় সেখানে পুলিশ থাকলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো আহত বিহারিরা থানায় গেলেও তাদের মামলা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমপিকে বিষয়টি সমাধানের জন্য বলা হলেও তা হয়নি। উল্টো পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের দুটি মামলায় বিহারি নেতাকে আটকসহ আহত সাধারণ বিহারি ও স্থানীয় জামায়াত নেতাদের নাম জড়ানো হয়। এক্ষেত্রে প্রশাসন ও সরকারি দল বিএনপির অবস্থানের নিন্দা জানান তিনি।

এমপি আব্দুল বাতেন আরও বলেন, জনগণ এখানে আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। আমি তাদের পাশে থাকব, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শুরু থেকেই সরকারি বা অন্য কোনো অনুদানের টাকায় উন্নয়নকাজ করতে গেলেই বাধা দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রশাসনের যথাযথ সহায়তা পাইনি।

তিনি বলেন, এখানে পরাজিত প্রার্থী একজন প্রতিমন্ত্রী। তিনি তার পরাজয় আশা করেননি। তিনি আমাকে মেনে নিতে পারছেন না। যে কারণে বিভিন্নভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে রূপনগরে মসজিদে অবস্থানকালে আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। সবাইকে দিলেও এই আসনের জন্য আমাকে ক্রীড়া সামগ্রী দেওয়া হয়নি।

তিনি এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের প্রতি অধিকতর নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে চারটি দাবি উত্থাপন করেন। সেগুলো হলো—বাংলাদেশী বিহারি পুনর্বাসন সংসদের সভাপতি নেওয়াজ আহমেদ খানের দ্রুত মুক্তি; নিরপরাধ ব্যক্তিদের নামে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহার করা; সহিংসতায় জড়িত প্রকৃত অস্ত্রধারী ও দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসনের পেশাদার ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা।

তিনি প্রত্যাশা করেন যে, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের পল্লবী মধ্য থানা আমির রইসুল ইসলাম, পল্লবী উত্তর থানা আমির সাইফুল কাদের ও সেক্রেটারি জুবায়ের আহমেদ রাজনসহ স্থানীয় জামায়াত নেতারা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন