সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে : রিজভী

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে : রিজভী
ছবি: সংগৃহীত।

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহল ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার দাবি, শ্রমিক অসন্তোষকে পুঁজি করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করতে সরকার কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার বিকেলে সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, পরাজিত শক্তি শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা জানান, গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করে পোস্ট দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

রিজভী বলেন, দেশে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির নানা অপচেষ্টা চলছে। তবে দীর্ঘ ১৭ বছর গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করা বিএনপি সহনশীলতার নীতিতে বিশ্বাস করে। চাঁদাবাজি, মাস্তানি, জমি দখল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এসব অপরাধের ক্ষেত্রে সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে।

তিনি আরো বলেন, ১৯৯৪, ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের বিষয়টি মানুষের জানা। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন নেতাকে কীভাবে ফাঁসির মুখোমুখি করেছে, সেটিও সবার জানা। তাই রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করে বিএনপিকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা সফল হবে না।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রকামী। তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে চায়। ১২ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও তার জোট নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। চোরাইপথে কিংবা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা আলোচনা করে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করবেন। যাঁর জনপ্রিয়তা বেশি এবং নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তাকেই প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তিনি জানান, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন কার্যক্রম আরো জোরদার হবে। ভোটগ্রহণ ও মনোনয়নপত্র জমার তারিখ নির্ধারিত হলে সে অনুযায়ী দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও আব্দুল মালিক চৌধুরীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন