নিখোঁজের ২৪ দিন পর যুবকের মাথার খুলি ও হাড় উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

নিখোঁজের ২৪ দিন পর যুবকের মাথার খুলি ও হাড় উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

ময়মনসিংহের ফুলপুরে নিখোঁজের ২৪ দিন পর মো. রাশেদুল ইসলাম (১৯) নামের এক যুবকের মাথার খুলি, শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে খসে পড়া হাড় এবং পোশাক উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ফুলপুর উপজেলার কুকাইল এলাকার রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (২৪), একই এলাকার ছাবেদ আলী ওরফে মিঠুর ছেলে রফিক ওরফে রফিদ (২৮) এবং মৃত আ. রহিমের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন (২৭)।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইটভাটায় কাজ বন্ধ থাকায় কিছুদিন ধরে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন রাশেদুল। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তার ঘনিষ্টতা তৈরি হয়। গত ১২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে স্থানীয় জসিম মিয়া মোবাইল ফোনে রাশেদুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

পরদিন ১৩ আগস্ট সকালে রাশেদুলের মোবাইল ফোন থেকে তার বাবার নম্বরে একটি কল আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে এক নারী কণ্ঠে জানানো হয় রাশেদুলকে অপহরণ করা হয়েছে এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা পরিশোধের জন্য পরিবারকে দুই ঘণ্টা সময় বেধে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কয়েক দফায় মোবাইলে মেসেজও পাঠানো হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

ঘটনার পরদিনই রাশেদুলের বাবা ফুলপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে ২৫ আগস্ট জসিমকে প্রধান আসামি করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে ফুলপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন তিনি।

মামলাটির তদন্তে গোয়েন্দা তথ্য ও ডিজিটাল যোগাযোগ বিশ্লেষণের মাধ্যমে গত ৬ সেপ্টেম্বর মামলার প্রধান আসামি জসিম উদ্দিনকে নেত্রকোণার শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে জসিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একই গ্রাম থেকে রফিক ওরফে রফিদ ও মোজাম্মেল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রধান আসামি জসিমের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী চন্দ্রপুর গ্রামের ‘গারোর ভিটা’ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে প্রায় ১০ হাত ব্যাসার্ধের একটি জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অবস্থায় মানবদেহের বিভিন্ন হাড়, একটি মাথার খুলি এবং পোশাক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত পোশাক দেখে দেহাবশেষটি নিখোঁজ রাশেদুলের বলে শনাক্ত করেন তার বাবা।

ফুলপুর থানার ওসি ফিরোজ হোসেন জানান, উদ্ধার করা দেহাবশেষের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ডিএনএ পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণের কাজ চলছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও নিহতের সঠিক পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত করতে দেহাবশেষ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ডিএনএ পরীক্ষা ও ময়নাতদন্তের পরই বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ওসি আরো জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাপর আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন