সমগ্র দেশের মানুষ যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের কষ্ট পাচ্ছেন, তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সংকট নিরসনে সরকার দ্রুত কাজ করছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে গ্যাসের সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।
শনিবার রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া-মোনাজাত এবং দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে আগামী ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে ১০ বছর মেয়াদি একটি জ্বালানি পরিকল্পনা উপস্থাপনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ যে বিদ্যুতের কষ্ট পাচ্ছেন, আমি আন্তরিকভাবে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।’ তিনি বলেন, সরকার কখনো দাবি করে না যে ছয় মাসের মধ্যে দেশের সব উন্নয়ন করে ফেলেছে। এটি সম্ভব নয়। ফ্যাসিবাদী সরকার শুধু বিদ্যুৎ খাতেই বিভিন্নভাবে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার দেনা করে রেখে গেছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি জানি, বিগত কিছুদিন যাবৎ সারা দেশে, গ্রামগঞ্জে, ক্ষেত্রবিশেষে মফস্বল শহরে, উপজেলা-জেলা শহরগুলোতে বিদ্যুতের কষ্ট পাচ্ছে মানুষ। গ্যাসের কষ্ট পাচ্ছে।’
গ্যাস সংকটের কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্যাস বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচাররা এই প্রাকৃতিক সম্পদের একটি কূপও খনন করেনি বা করতে দেয়নি। বরং তারা এ খাতটি বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দিয়েছিল। সরকারে আসার পরই দেশের মাটিতে দ্রুত গ্যাস কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স এই কাজ করবে, যাতে গ্যাস কূপের নিয়ন্ত্রণ দেশের মানুষের হাতেই থাকে।
তিনি বলেন, বর্তমানে গ্যাসের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে জাহাজে করে আমদানি করতে হয়। ফ্যাসিবাদ গত ১৫ বছরে গ্যাস সংরক্ষণের জন্য মাত্র দুটি স্টোরেজের ব্যবস্থা করেছে। তাও এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে তাদের লোকজন সেই সুবিধা পায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আরও একটি জাহাজের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেটিও বাতিল করা হয়েছে। দুটি জাহাজের একটিতে দুর্ঘটনা ঘটায় বর্তমানে গ্যাসের এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
সংকট সমাধানের অগ্রগতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে কারিগরি ত্রুটি সারানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে গ্যাসের সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে। বিদ্যুতের কষ্ট থেকেও মানুষকে দ্রুত মুক্তি দিতে সরকার কাজ করছে। ‘আশা করছি দ্রুতই এই কষ্ট থেকে বের করে আনতে পারব’—বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখতে চায়। তারা দেখতে চায়, প্রিয় মাতৃভূমি পৃথিবীর বুকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে, শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে হবে।
অনুষ্ঠানে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি আবদুর রহমান সানী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


