ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, এই অঞ্চলের ইতিহাসের এক নির্মম সত্য হলো—প্রতিটি পটপরিবর্তনে উলামায়ে কেরাম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে উলামায়ে কেরামকে সম্পৃক্ত করা হয় না। ফলে যে প্রত্যাশা নিয়ে মানুষ জীবন ও রক্ত উৎসর্গ করে পটপরিবর্তন ঘটায়, তা আর পূরণ হয় না।
তিনি বলেন, উলামাদের রক্ত-ঘামে অর্জিত পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনে তাদের উপেক্ষা করার পরিণতি কখনো ভালো হয়নি। তাই সরকারকে বলব, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনে উলামায়ে কেরামকে সম্পৃক্ত করুন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ আয়োজিত ন্যাশনাল ওলামা সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, ডেঙ্গু ও হামে শত শত মানুষের মৃত্যু হলেও সরকারের মধ্যে কোনো ধরনের তৎপরতা নেই। জনদুর্ভোগ লাঘবেও সরকারের উদাসীনতা লক্ষণীয়। একের পর এক দাম বাড়িয়ে সব সংকট মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, দাম বাড়িয়ে সংকটের সমাধান না করে সমস্যার গভীরে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করুন।
সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এ সামিটে চরমোনাই পীরসহ দেশের শতাধিক জাতীয় পর্যায়ের আলেম অংশ নেন। বক্তব্য শেষে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের ২০২৭-২৮ সেশনের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নতুন কমিটিতে মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদকে কেন্দ্রীয় সভাপতি, ড. এএফএম খালিদ হোসাইনকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, মুফতি রেজাউল করীম আবরারকে সাধারণ সম্পাদক এবং মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফীকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুনাজেরে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. এএফএম খালিদ হোসেন, আল্লামা ইয়াহইয়া মাহমুদ, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, মুফতি মোহাম্মদ আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, মুফতি রেজাউল করীম আবরার ও মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফীসহ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ওলামা-মাশায়েখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


