বরিশালের বাকেরগঞ্জ-নিয়ামতি-বরগুনা আঞ্চলিক সড়কের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণকাজ মাঝপথে থেমে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী, যাত্রী ও যানবাহনচালকদের। দ্রুত কাজ শেষ না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস আগে বাকেরগঞ্জ-নিয়ামতি সড়কের পুনর্নির্মাণ ও প্রশস্তকরণ কাজ শুরু হয়। কাজ শুরুর পর সড়কের বিভিন্ন অংশ খনন করা হলেও পরবর্তী সময়ে কাজের গতি কমে যায় এবং একপর্যায়ে বেশ কিছু অংশে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সংস্কারাধীন সড়কটি এখন চলাচলের জন্য অনুপযোগী এবং আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও উঁচু-নিচু অংশ তৈরি হওয়ায় যানবাহন চলাচলে দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি ও কাদা জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। আর শুকনো সময়ে ধলোবালুর কারণে ভোগান্তিতে পড়ে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকদের অভিযোগ, সংস্কারকাজ শুরুর আগে সড়কটি যে অবস্থায় ছিল, বর্তমানে অনেক জায়গায় তার চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় পর্যাপ্ত দৃশ্যমানতা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।
ওই সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী সোহেল সিকদার বলেন, ‘সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় আমরা ভেবেছিলাম দ্রুত ভালো একটি সড়ক পাব। কিন্তু কাজ অসমাপ্ত রেখে দেওয়ায় এখন প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। যানবাহন ধীরগতিতে চলায় যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগছে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় পরিবহন ব্যয় ও সময় দুটোই বাড়ছে।
এদিকে রোগী ও জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারীদের ভোগান্তিও বেড়েছে। সড়কের খানাখন্দের কারণে অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সড়কের অসমাপ্ত সংস্কারকাজ শেষ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে রাতের বেলায় গর্ত ও নির্মাণকাজের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে বাকেরগঞ্জ-নিয়ামতি আঞ্চলিক সড়কের অসমাপ্ত সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং চলাচল উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উপজেলা প্রকৌশলী হাসনাইন আহমেদ বলেন, বর্ষার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। আগামী মাসে বন্ধ থাকা কাজ শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সড়কটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন করবে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-43e2cf-720x405.webp)