তৃণমূল দায়িত্বশীলদের যোগ্য হতে হবে: গোলাম পরওয়ার

তৃণমূল দায়িত্বশীলদের যোগ্য হতে হবে: গোলাম পরওয়ার
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংগঠন পরিচালনায় অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তৃণমূলের দায়িত্বশীলদের যোগ্য হতে হবে। আদর্শ আচরণের মাধ্যমে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে সংগঠন এবং নেতৃত্বে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে কার্যকরের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের উদ্যোগে ২৫, ২৬ ও ২৭ আগস্ট তিন দিনব্যাপী রংপুর বড় আলিয়া মাদ্রাসায় আয়োজিত উপজেলা/থানা দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা উপস্থাপন করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম। বিষয়ভিত্তিক আলোচনা পেশ করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। পরিবার গঠনে নজর দিতে হবে; যাতে করে স্ত্রী-সন্তানরা ইসলামী আন্দোলনের জন্যে গড়ে ওঠে এবং নিজেদের ইসলামী আন্দোলনের সহায়ক হিসেবে কাজে লাগাতে পারে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নসহ স্থানীয় নির্বাচনের সকল স্তরে অংশগ্রহণ করার জন্য প্রার্থী বাছাই করতে হবে এবং জনগণের সাথে সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করতে হবে।

বিগত নির্বাচনে রংপুরের জনগণ জামায়াত প্রার্থীদের নির্বাচিত করে সংগঠনের প্রতি যে আস্থা স্থাপন করেছেন, তার মর্যাদা রাখতে এমপিদের কাজ ও জনগণের সেবার মাধ্যমে সমন্বিত ভূমিকা পালন করতে হবে দায়িত্বশীলদের। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও ত্যাগ-তিতিক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করে সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নৈতিক স্খলন ও দুর্বলতা থেকে রক্ষা করতে সংগঠনের জনশক্তির মানোন্নয়ন করতে হবে। ফ্যাসিস্ট আমলে মজলুম ও শহীদ নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগ ও দুঃখকষ্টের মূল্যায়ন করে নিজেদের ত্যাগ-কুরবানির ক্ষেত্রে মডেল বানাতে হবে।

সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন, কর্মী পরিচালনা এবং জনগণের সাথে সামগ্রিক কাজের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনকে সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল টিম সদস্য ফকিহ আবদুল হাকিমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে গ্রুপভিত্তিক আলোচনা ও পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং মহানগর আমির মাওলানা এটিএম আজম খান, অঞ্চল টিম সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, রংপুর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রব্বানী এমপি, সাবেক কুড়িগ্রাম জেলা আমির মাওলানা আবদুল মতিন ফারুকী, লালমনিরহাট জেলার সাবেক আমির এডভোকেট আবদুল বাতেন, প্রভাষক আতাউর রহমান, রংপুর মহানগর সেক্রেটারি কেএম আনোয়ারুল হক কাজল ও রংপুর জেলা সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক প্রমুখ।

সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়

আজ দুপুরে রংপুর মহানগর কার্যালয়ে মহানগর আমির এটিএম আজম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনদুর্ভোগ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দলীয়করণ ছাড়াও বড় সংকট হলো চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে যে গণরায় জনগণ দিয়েছে- তা ক্ষমতাসীন সরকার মেনে নেয়নি। গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংবিধানে নেই- এমন সব আজব আজব কথা বলছেন তারা। অথচ আমরা কর্তৃত্ববাদী সরকার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি।

তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে সব দলের লোকেরা চাকরি করবে। নিয়োগ বিধি আছে। রাজনৈতিক পদে থেকে সরকারি পদে নিয়োগ দেয়া যায় না। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দেশে কেবল নির্বাচিত সরকার না থাকলে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন পদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার সুযোগ আছে। সংবিধান অনুযায়ী কেবল স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু সরকারি প্রশাসককে সরিয়ে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বিএনপি সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, সবার আগে বাংলাদেশ নয়, বরং সবার আগে বিএনপি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে হারিয়ে দেয়াকে আমরা মেনে নিয়েছি। কিন্তু সরকারের পরাজিত প্রার্থীদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে তারা নির্বাচিত এমপিদের কাজের ক্ষেত্রে বৈষম্যের সৃষ্টি করছেন। সংরক্ষিত নারী এমপিদের নির্বাচিত বিরোধীদলীয় এমপিদের এলাকায় অসাংবিধানিকভাবে তদারকির দায়িত্ব দিয়েছে।

সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিএনপি গণভোটে রায় দেয়া পাঁচ কোটি মানুষের সাথে দ্বিচারিতা করছে। বিএনপি হ্যাঁ-তে ভোট চেয়ে এখন অস্বীকার করছে। এজন্য বিএনপি গণভোটে হ্যাঁ-তে ভোট দেয়নি- তা সংসদে স্পষ্ট করার আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, বিএনপির প্রস্তাবে গণভোট হয়েছে, হ্যাঁ-তে তারা ভোট চেয়েছে, ভোটের পরে ক্ষমতায় এসে বলছে এগুলো সংবিধান বিরোধী। মানুষকে বিভ্রান্ত করার ও শুভঙ্করের ফাঁকি মানুষ বোঝে। জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি সরকার ভুলে গেছে। আমরা চাই, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক এবং জনগণের প্রতি দেয়া ওয়াদা তারা পালন করুক। দেশে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি না হোক এবং সংসদে জুলাই সনদসহ সব বিষয়ে আলোচনা হোক। আমাদের রাজপথে ঠেলে দিলে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দেয়া প্রায় ৭০ ভাগ মানুষকে চলা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না, হুঁশিয়ার করেন গোলাম পরওয়ার।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জনমতকে জুলাই সনদের অনুকূল রাখা এবং যে জুলাই সনদের ভিত্তিতে যে গণভোট হয়েছে, সেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ছয়মাস ধরে ১১ দল সংসদে ভূমিকা রেখেছে ও রাজপথে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। জেলা, মহানগর, উপজেলা পর্যায়ে দফায় দফায় মিছিল, বিক্ষোভ ও মহাসমাবেশ করেছে ১১ দল। আন্দোলনের তৃতীয় পর্ব শেষে চতুর্থ পর্বে লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছে বিরোধীদল। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের প্রথম লংমার্চের যাত্রা শুরু হবে।

এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে রংপুর অভিমুখে লংমার্চের যাত্রা শুরু করা হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষ লংমার্চে যোগ দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। সমস্ত অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে জেগে ওঠা জনপদ, শহীদ আবু সাঈদের রক্তের স্মৃতি বিজড়িত উত্তরবঙ্গের জনপদ রংপুরের লংমার্চে জনগণকে যোগ দিয়ে সফল করার আহ্বান জানান তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন