নাটোরের লালপুরে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান ও বিশেষ অতিথি না করায় ‘১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে’—এমন ভুয়া ঘোষণা দিয়ে মাইকিং করার অভিযোগে লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মারুফ আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার নাটোর জেলা ছাত্রদল সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করেন। একই সঙ্গে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাটোর জেলা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক কে এফ কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গত রোববার মারুফ আলীর কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে শোকজ নোটিশ দেয় জেলা ছাত্রদল। তাকে ২৪ আগস্টের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তবে তার দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় এবং অভিযোগের বিষয়টি তিনি স্বীকার করায় সাংগঠনিকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, লালপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে প্রায় ছয় দশক ধরে নিয়মিত ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন হয়ে আসছে। এবারের টুর্নামেন্টে স্থানীয় কলেজ, হাইস্কুল, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের ছয়টি দল অংশ নেয়।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ছাত্রদল নেতা মো. মারুফ আলী ফাইনাল খেলায় পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম মোলামকে প্রধান অতিথি এবং তাকে বিশেষ অতিথি করার দাবি জানান।
তবে আয়োজকরা দীর্ঘদিনের স্থানীয় ঐতিহ্য বজায় রেখে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যক্তিদের অতিথি না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মারুফ আলী নিজ উদ্যোগে মাইক ভাড়া করে পুরো গ্রামে ঘোষণা দেন খেলার মাঠে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে, সেখানে কেউ খেলতে পারবেন না।
এমন ঘোষণার পর ফাইনাল খেলাটি স্থগিত হয়ে যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবির সুইস বলেন, জেলা ছাত্রদল দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মারুফ আলীকে বহিষ্কার করেছেন।
নাটোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি আমাদের নজরে আসার পর সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। অভিযুক্ত নেতার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। তার বক্তব্য ও সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে সংগঠনের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

