গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুব ক্লাসরুমে হিজাব-নিক্বাব পরিহিত ছাত্রীকে কটাক্ষ করে তাকে ফান্ডামেন্টালিস্ট ও সন্ত্রাসী ট্যাগ দিয়ে হেনস্তার তীব্র সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি। তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এধরনের ঘটনা অনাকাঙিক্ষত ও নিন্দনীয়। এ ঘটনায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে নূরুন্নিসা সিদ্দীকা আরো বলেন, নিজ নিজ ধর্মচর্চা করা এবং পোশাক নির্বাচন প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। অতীতের বুলিং ও ট্যাগিংয়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে দেশ যখন সামনের দিকে এগোচ্ছে তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রগতিশীলতার নামে হিজাব-নিক্বাব বিদ্বেষের কোনো সুযোগ নেই। বরং এই বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যে অভিযুক্ত শিক্ষক নেটওয়ার্কের নেত্রী তাসনিম সিরাজ মাহবুবের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ও হিজাবোফোবিয়ারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিলো দেশ থেকে সমস্ত ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির মূলোৎপাটন করার জন্য। এত আত্মত্যাগের পরেও এখনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির ধারক-বাহকেরা বহাল তবিয়তে আছেন। আমরা মনে করি পোশাক নির্বাচন প্রতিটি মানুষের নিজস্ব বিষয়। নিক্বাব পরিহিত শিক্ষার্থীকে কটাক্ষ করা অথবা এ ধরনের সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়া অত্যন্ত হীন মানসিকতার পরিচয়।
নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, আমরা তাকে তার মন্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহবান করছি। সেই সাথে অভিযুক্ত শিক্ষক যেন ভবিষ্যতে এই ধরনের মন্তব্য করার সাহস না পায়- বিষয়টি নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সহপাঠীদের ওপর সংঘটিত এই আচরণের প্রতিবাদে শ্রেণিকক্ষের সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অবস্থান ও ক্লাস বর্জনের সাহসিকতাকে আমরা আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই।
তিনি এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করুন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


