নিখোঁজ নয়, ‘আর্থিক সংকটে’ সপরিবারে আত্মগোপনে সোনা ব্যবসায়ী পিন্টু দাস

নিখোঁজ নয়, ‘আর্থিক সংকটে’ সপরিবারে আত্মগোপনে সোনা ব্যবসায়ী পিন্টু দাস
ব্যবসায়ী পিন্টু দাস

চাঁদপুর শহরের এস কে শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস সপরিবারে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার নিকটাত্মীয়রা। ব্যবসায়িক ঋণ ও গ্রাহকদের স্বর্ণ ফেরত দেওয়ার চাপের কারণে তিনি আত্মগোপনে যেতে পারেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পুলিশ জানিয়েছে, পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চার সদস্যের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছে এবং তদন্ত করে উদ্ধারের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গত মঙ্গলবার থেকে পিন্টু দাসের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। তার সঙ্গে স্ত্রী রিমি দাস, বড় ছেলে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়ম দাস ও ছোট ছেলে রুপম দাসও রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিন্টু দাসের নিকটাত্মীয় ও চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে।

তিনি জানান, পিন্টু দাস ও তার পরিবার চাঁদপুর শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার দাবি, পিন্টু দাস ঋণে জর্জরিত ছিলেন। সম্প্রতি একাধিক গ্রাহক বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত নেওয়ার জন্য তাকে চাপ দেন। তাদের হয়ে শহরের পাটোয়ারী বাড়ির এক ব্যক্তি পিন্টু দাসকে মানুষের স্বর্ণালংকার ফেরত দিতে হুমকি-ধামকি দেন বলেও জানান তিনি। এরপর থেকেই পিন্টু দাসের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দাবি করেন, পিন্টু দাস স্বর্ণ বন্ধক রেখে অর্থ দেওয়ার ব্যবসা করতেন। দীর্ঘদিন ধরে লোকজনের স্বর্ণ বন্ধক রাখলেও তা ফেরত দিতে পারছিলেন না। এছাড়া বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার নামে ঋণ নিয়ে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন বলে তাদের দাবি।

তারা আরও জানান, একাধিকবার দোকান স্থানান্তরের পর সর্বশেষ মদিনা মার্কেটের নিচতলায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন পিন্টু দাস। সেখানে বন্ধক রাখা স্বর্ণের বাজারমূল্যের প্রায় চার ভাগের একভাগ অর্থ গ্রাহকদের দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান জানান, তিনি আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার পিন্টু দাসের কাছে ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রাখেন। পরে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু দাস তাকে পরের দিন আসতে বলেন। পরদিন এসে তিনি দেখেন, পিন্টুর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। পরে জানতে পারেন, পিন্টু সপরিবারে চলে গেছেন।

দক্ষিণ গুণরাজদীর জাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি ১২ আনা স্বর্ণ এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রেখেছিলেন। তাদের স্বর্ণও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

মদিনা মার্কেটের মালিক মফিজ উদ্দিন সরকার বলেন, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে পিন্টু দাস ‘এস কে শিল্পালয়’ নামে একটি দোকান ভাড়া নেন। তিনি জানিয়েছিলেন, তার মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। কুমিল্লা ও মুদাফফরগঞ্জে তার আত্মীয়স্বজন রয়েছেন। কয়েক মাসের দোকান ভাড়াও তার কাছে পাওনা রয়েছে বলে জানান মফিজ উদ্দিন।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চারজন নিখোঁজ—এটা এই মাত্রই জানলাম। বিষয়টি তদন্ত করে তাদের উদ্ধারে পদক্ষেপ নেব।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন