গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস ও দলীয়করণসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগ নিয়ে সরকারের অনীহার কথা দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বিরোধীদলীয় নেতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের কর্তাব্যক্তি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা অংশ নেন।
বেলা ১১টার পরপরই টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর কর্তাব্যক্তিরা বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে আসতে শুরু করেন। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে ১১টায় বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকের শুরুতে জামায়াত নেতারা জানান, দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের কাছ থেকে দিকনির্দেশনামূলক মতামত নেওয়া এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিরোধী দলের কাছে গণমাধ্যমের প্রত্যাশা জানাই এ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
বৈঠকে জামায়াত আমিরের সঙ্গে দলের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি জানান, বৈঠকে জামায়াত আমির দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন জনসমস্যা তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় রাজনীতিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা বৈঠকে তুলে ধরেছেন জামায়াত আমির। একই সঙ্গে সংসদের ভেতরে ও বাইরে দলটির আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জুলাই চার্টার অনুযায়ী অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের মেনে চলার পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে ভিন্নমত ছাড়াই গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তারা।
বৈঠকে দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস ও দলীয়করণের বিভিন্ন চিত্র নিয়েও আলোচনা হয়।
জামায়াত আমির বলেন, ইলেকট্রনিক মিডিয়া শুধু সংবাদ পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় সচেতনতা ও ঐক্য সৃষ্টিতে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের দায়িত্ব আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।
একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলোও খোলামেলাভাবে তুলে ধরে গঠনমূলক সমালোচনা করার জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।
বৈঠকে জামায়াত আমির বলেন, অতীতের বিরোধী দলগুলোর মতো নয়, জনআকাঙ্ক্ষার আলোকে সংসদে ও রাজপথে সত্যিকারের বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে জামায়াতে ইসলামী।
তিনি বলেন, সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা করার পাশাপাশি সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দলটি কঠোর অবস্থানে থাকবে।
বৈঠকে টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা দেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।
তারা বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়া এখনো কাঠামোগতভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে গড়ে উঠতে পারেনি। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ওয়েজবোর্ড না থাকাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথাও তারা তুলে ধরেন।
দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তারা। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা গণমাধ্যমকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করার বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেন।
বৈঠকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণমাধ্যমের ভূমিকা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনদুর্ভোগ এবং সংসদ ও রাজপথে বিরোধী দলের দায়িত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


