জীবনযাপনে চার প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের পার্থক্য

জীবনযাপনে চার প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের পার্থক্য

নিজের সামর্থ্যের মধ্যে জীবনযাপন—কথাটি সবার কাছে একই অর্থ বহন করে না। বয়স ও প্রজন্মভেদে অর্থ ব্যবস্থাপনা, সঞ্চয়, ঋণ এবং খরচের বিষয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। জেনারেশন জেড (জেন জি), মিলেনিয়াল, জেনারেশন এক্স ও বেবি বুমারদের মধ্যে এ পার্থক্য সবচেয়ে স্পষ্ট।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পুরোনো প্রজন্ম সাধারণত আর্থিকভাবে তুলনামূলক স্থিতিশীল হলেও তরুণ প্রজন্মের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয়, বাড়িভাড়া, ঋণ ও নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম অর্থ ব্যবস্থাপনা কঠিন করে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন

বুমারদের কাছে সঞ্চয়ই প্রধান

বেবি বুমাররা (১৯৪৬-১৯৬৪) কঠোর পরিশ্রম, সঞ্চয় এবং ঋণ এড়িয়ে চলাকে বেশি গুরুত্ব দেন। প্রয়োজন ছাড়া খরচ না করা এবং যত দ্রুত সম্ভব ঋণ পরিশোধ করাকে তারা আর্থিক নিরাপত্তার অংশ মনে করেন।

তাদের অনেকের কাছে নিজের সামর্থ্যের মধ্যে জীবনযাপন মানে ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানের কিছু সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করা। কম খরচ করে বেশি সঞ্চয় করাই তাদের কাছে আর্থিকভাবে নিরাপদ থাকার অন্যতম উপায়।

জেন এক্সের কাছে গুরুত্ব পণ্যের মানে

জেনারেশন এক্স (১৯৬৫-১৯৮০)তুলনামূলকভাবে ভিন্নভাবে বিষয়টি দেখে। তারা শুধু কম খরচ করার দিকে নজর না দিয়ে অর্থের বিনিময়ে কতটা মূল্য পাওয়া যাচ্ছে, সেটিকে বেশি গুরুত্ব দেয়।

ভালো মানের পণ্য বা এমন কোনো সেবা, যা দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করে, তার জন্য বেশি খরচ করতেও তারা প্রস্তুত। তবে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে নিয়মিত সঞ্চয় এবং পরিকল্পিত ব্যয়কে গুরুত্ব দেন তারা।

মিলেনিয়ালদের লড়াই খরচের সঙ্গে

মিলেনিয়ালদের (১৯৮১-১৯৯৬) ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। বাড়িভাড়া, আবাসন ব্যয়, শিক্ষাঋণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের কারণে তাদের আয়ের বড় অংশই প্রয়োজনীয় খাতে চলে যায়।

এ কারণে তারা খরচের হিসাব রাখার দিকে বেশি মনোযোগী। কোথায় কত টাকা খরচ হচ্ছে, তা হিসাব করে চলা এবং পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সম্পদ ভাগাভাগি করাকে তারা বাস্তবসম্মত সমাধান হিসেবে দেখছে। অনেক ক্ষেত্রে সন্তান দেখাশোনায় বাবা-মায়ের সহায়তা নেওয়া কিংবা বন্ধু-পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে বসবাসও তাদের অর্থ সাশ্রয়ের কৌশল।

জেন জির কাছে আনন্দও জরুরি

জেনারেশন জি (১৯৯৭-২০১২) অর্থ সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে নমনীয়। তারা নিয়মিত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সঞ্চয়ের পরিবর্তে সুযোগ অনুযায়ী কিছু অর্থ আলাদা করে রাখাকে গুরুত্ব দেয়। এটিকে অনেক সময় ‘সফট সেভিং’ বলা হচ্ছে।

তবে সঞ্চয়ের পাশাপাশি ছোটখাটো আনন্দ ও সামর্থ্যের মধ্যে বিনোদনের জন্যও তারা অর্থ ব্যয় করতে চায়। কম খরচের খাবার, ঘোরাঘুরি বা ছোটখাটো অভিজ্ঞতাকে তারা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করে।

তাদের দৃষ্টিতে ভবিষ্যতের জন্য সব আনন্দ বিসর্জন দিয়ে বর্তমানকে কঠিন করে তোলার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে নিকট ভবিষ্যতে বাড়ি বা বড় কোনো সম্পদ কেনার পরিকল্পনা না থাকলে তারা বর্তমান জীবনের অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়।

‘সামর্থ্যের মধ্যে জীবনযাপন’ আসলে শুধু কম খরচ করার বিষয় নয়। কোন প্রজন্ম কীভাবে অর্থ আয় করছে, তাদের ওপর কী ধরনের আর্থিক চাপ রয়েছে এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তাদের প্রত্যাশা কী—তার ওপরই এই ধারণা অনেকটা নির্ভর করে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন