দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে সমাপনী দিবসে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা এবং ৬৮.৫৯ শতাংশ মানুষের সরাসরি ম্যান্ডেটকে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নস্যাৎ করার অপচেষ্টা চলছে। ২৫টি রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ আজ খোদ স্বাক্ষরকারী দল বিএনপির হাতেই জিম্মি হয়ে পড়েছে। রাজপথের লড়াইয়ের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়কে আইনি মারপ্যাঁচে নস্যাৎ করার কোনো হীন চক্রান্ত এ দেশের ছাত্র-জনতা বরদাস্ত করবে না। জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে মাঠে সক্রিয় থাকবে ছাত্রশিবির ইনশাআল্লাহ।
মঙ্গলবার ছাত্রশিবিরের মাসিক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট বৈঠক ও ঈদ পুনর্মিলনীতে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুই দিনব্যাপী বৈঠকে সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে মার্চ মাসের রিপোর্ট পর্যালোচনা ও এপ্রিল মাসের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সভায় সেক্রেটারিয়েট সদস্যদের ব্যক্তিগত ও বিভাগীয় রিপোর্ট, অঞ্চলভিত্তিক শাখাসমূহের রিপোর্ট, ক্যাম্পাস পরিস্থিতি, ছাত্র সংসদ নির্বাচন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ এবং আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণসহ বিভিন্ন এজেন্ডা আলোচনা করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম আরও বলেন, ১৭ অক্টোবর ২০২৫-এ অধিকাংশ দলের সম্মতিতে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং ১৩ নভেম্বরের রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণভোটে দেশের ৬৮.৫৯ শতাংশ মানুষ এই সনদের পক্ষে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া মানেই জনগণের এই সরাসরি রায়কে অগ্রাহ্য করার লাইসেন্স পাওয়া নয়। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাস্তবায়নে সরকারের এই গড়িমসি ও টালবাহানা মূলত জনগণের ম্যান্ডেটের সাথে স্পষ্ট বিশ্বাসঘাতকতা।
সরকারের দ্বিচারিতার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছি, সরকার এখন মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ কমিশন এবং বিচার বিভাগ পৃথক করার মতো ১৫টি মৌলিক সংস্কারের অধ্যাদেশ রহিত বা সংশোধন করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় দলীয়করণের পুরোনো ছকে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। বিচারপতি নিয়োগের স্বচ্ছ বাছাই কমিটি ও সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত করার মাধ্যমে পুনরায় বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাঁয়তারা চলছে। নির্বাচনের আগে দলীয় প্রধান কর্তৃক ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালিয়ে, এখন সেই রায়কেই অস্বীকার করা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ছাড়া আর কিছুই নয়।
বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনমত গঠন এবং সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

