দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির বর্জ্য নিষ্কাশনের ড্রেন দিয়ে ভেসে যাওয়া ‘কালো সোনা’ খ্যাত কয়লার গুঁড়া সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন স্থানীয়রা। পুকুর সেচে তলানির কালো কাদা মাটি কেটে আনা হচ্ছে। তবে, এভাবে মাটি আহরণকে অবৈধ বলছে এলাকার সচেতন মহল। খনি এলাকায় মেটেল বা শতাধিক ছোট ছোট পুকুর কেটে রেখেছেন এলাকার কিছু মানুষ। খনি ভূগর্ভের পানিপ্রবাহ নর্দমার মাধ্যমে গিয়ে পড়ছে ওই মেটেলগুলোতে। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকার রসুলপুর, শাহগ্রাম, চৌহাটিগ্রাম ও কালুপাড়ায় এ ধরনের অসংখ্য মেটেল কাটা হয়েছে।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, খনি ভূগর্ভের পানি হুহু করে বের হয়ে আসছে ড্রেন দিয়ে। এসব চলে যাচ্ছে পশ্চিমের চিলাহাটি-খুলনা রেলপথের পাশ ঘেঁষে। কিছুদূর পর পর এলাকাবাসী পুকুর খুঁড়ে রেখেছেন। তাতে জমা হচ্ছে নর্দমার পানি। তারা জানান, পুকুর থেকে তুলে আনা কাদামাটি কেটে ট্রলিতে তোলা হয়। এভাবে মাটি কাটা অবৈধ কি না, তিনি তা জানেন না। বললেন, এসব মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়। প্রতি ট্রলি মাটির দাম চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। এলাকার অনেকেই এখন কালো মাটির ব্যবসা করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়লাখনির একজন কর্মকর্তা জানান, ভূগর্ভের অনেক তল থেকে কয়লা উত্তোলন হয়। এ সময় তলদেশের পানি অপসারণ করে কাটতে হয় কয়লা। ওই পানিতে কয়লা অ্যাশ (ছাই) ও গুঁড়ো দ্রবণ হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে, যা আশপাশের পুকুরে গিয়ে পড়ে। পরে এসব থিতিয়ে কালো মাটিতে পরিণত হয়।
পাশের ইটভাটার মালিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, তারা কালো মাটি টন হিসেবে কিনে নেন। পরে তা কয়লার সঙ্গে মিশিয়ে ইট পোড়ানোর কাজে ব্যবহার হয়। প্রতি টন কালো মাটি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা দরে কেনা হয়ে থাকে। যেখানে আমদানি করা কয়লার দাম ৩০ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত। খানিক ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য পার্বতীপুর এলাকার অনেক ভাটা মালিক কালো মাটি ব্যবহার করেন। মেটেল মালিক বৈগ্রামের বাসিন্দা সহিদুল ইসলাম জানান, খনির কালো পানি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এসব জমিতে গেলে জমি উর্বরাশক্তি হারাতে পারে। তাই আমরা পুকুর কেটে ওই পানি ধারণ করি, যা আমাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। চৌহাটি গ্রামের আব্দুর রহমান জানান, খনি এলাকায় অনেকেই এভাবে পুকুর কাটছেন। পরে তলানীর মাটি বিক্রি করছেন। এ ধরনের কাজ অবৈধ। আমি চাই খনির পানির সংরক্ষণ ও শোধন হোক। কালো মাটি আহরণে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শাহ আলম মতামত জানতে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

