অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিগত সরকারগুলো বাংলাদেশকে একটা গভীর গর্তে ফেলে গেছে। ফ্যাসিস্ট সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মিলে সেই গর্তে ফেলেছে। সেই গর্ত থেকে দেশকে তুলতে একমাত্র বিএনপিই পারবে। কারণ আমাদের শিক্ষক ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আর বর্তমানে আমাদের নেতা তারেক রহমান। তার সরকার পারবে দেশের সমস্যাগুলো সমাধান করতে। কেননা বিএনপি দেশকে ভালোবাসে। দেশের মানুষের প্রতি তারা দায়বদ্ধ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি আয়োজিত র্যালী পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপিই পারবে দেশের সমস্যাগুলি সমাধান করতে। ফ্যাসিস্ট সরকার লুটপাটের মাধ্যমে ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমি বলি বেকার সরকার তারা দুয়ে মিলে দেশকে গর্তে ফেলেছে। সেখান থেকে ওঠে আসতে একটু সময় লাগবে। আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেব পারবে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, চিন্তার কোন কারণ নেই। আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে সামনে আছি। আবার প্রয়োজনে রাজপথে সাথে থাকব। পিছিয়ে পড়ার কোন সুযোগ নেই। আমাদের দল দেশকে ভালোবাসে। আমাদের নেতা যেই স্বপ্ন বাংলাদেশকে দেখিয়েছেন সেই স্বপ্ন সবাইকে মিলে বাস্তবায়ন করতে হবে। ভালো দিন আসবে, খারাপ দিন আসবে। আমরা এগুলো পাঁচবার অতিক্রম করে এসেছি। আমাদের জন্য কোন কিছুই কঠিন নয়। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ গড়ার কাজ চলছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এরকম অর্থনৈতিক অবস্থায় যেসব অর্থনৈতিক কর্মসূচী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন সেই সাহস দেশের কোন নেতার নেই। অর্থনীতির খারাপ সময়ে এতো বড় বাজেট ঘোষণারও সাহস কারো নেই। আমি তার নেতৃত্বে সাহসী ভূমিকা পালন করেছি এবং সাহসী বাজেট দিয়েছি। সেই বাজেটও পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করব।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে যেসব সমস্যা সেগুলো কোন দল বা গোষ্ঠীর সমস্যা হিসেবে আমরা দেখছিনা। আমরা দেশের মানুষের সমস্যা হিসেবে দেখছি। ইতিমধ্যে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে আগামীতেও আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে দেশের মানুষের স্বার্থে।
আমীর খসরু বলেন, যারা দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে দেশের মানুষ তাদেরকে ক্ষমা করবে না। মানুষ অনেক কষ্ট করে একটি রাজনৈতিক সরকারকে ক্ষমতায় পাঠিয়েছে। অনেক কষ্টের বিনিময়ে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন হয়েছে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে একটি নির্বাচিত সংসদ ও সরকার হয়েছে। এই সরকারের দায় হলো মানুষের ত্যাগের, আখাঙ্কার প্রতিফলন ঘটনো। তবে ধৈর্য ধরতে হবে। সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।
মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা নিজেরাই জানি এলাকায় কারা মাদক ব্যবসা করে। পুলিশের জন্য বসে থাকতে হবে কেন। তাদেরকে চিহ্নিত করে পুলিশে তুলে দিন। যারা শৃঙ্খলা নষ্ট করবে, সরকারের কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করবে তাদেরকে তীক্ষ্ণ নজরে রাখা হবে। যারা এলাকায় দখলবাজি, চাঁদাবাজি করবে তাদেরকে পুলিশে তুলে দিন। এটাই এই সরকারের দায়িত্ব।
সমাবেশে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ১ হাজার গাড়ি নিয়ে দেশে একটা লং মার্চ হবে। বলা হচ্ছে দেশে তেল নেই, গ্যাস সেই। একটা গাড়িতে যদি ২০০ লিটার তেল লাগে তাহলে ১ হাজার গাড়িতে তেল লাগবে ২ লাখ লিটার। এটাই হলো বাংলাদেশের রাজনীতির হিপোক্রেসি। অন্তরে এক, মুখে আরেক। চায় বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে। মনে রাখবেন জনগণ আমাদের সরকারকে ৫ বছরের জন্য ম্যান্ডেট দিয়েছে।
র্যালী পূর্ব সমাবেশে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ’র সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমসহ মহানগরের নেতৃবৃন্দ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

