প্রশাসন যদি কোনো অবস্থায় ন্যায়বিচারের পথ ছেড়ে জালিমের ভূমিকা পালন করে, তবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং জনগণ তা রুখে দাঁড়াবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষ ও উদ্ভূত পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা চাই না আমাদের প্রশাসন অতীত ফ্যাসিবাদী আমলের মতো অন্যায়ের পক্ষ নিক। সংগত ও ভালো কাজে প্রশাসন সবসময় জনগণের সহযোগিতা পাবে। কিন্তু প্রশাসন যদি জালিমের ভূমিকা পালন করে, তবে আমরা তা রুখে দাঁড়াবো।’ এ সময় তিনি প্রশাসনকে ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন’ নীতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করার আহ্বান জানান।
উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন ও চলাচলের উপযোগী রাখা যেমন নাগরিক দায়িত্ব, তেমনি ফুটপাতের প্রান্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের কর্তব্য। উপযুক্ত বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হলে সংঘাত এড়ানো সম্ভব হতো। সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের তাগিদ দেন তিনি।
ফুটপাত ঘিরে দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, একদল অসাধু চক্র মাসের পর মাস এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক হারে চাঁদা আদায় করে আসছে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপর আর্থিক বোঝা বাড়ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, শহর কিংবা দেশে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলদারি ও মাদকের ব্যবসা বরদাশত করা হবে না। যারা এসব অপরাধে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
উচ্ছেদ অভিযানে সংঘর্ষে হতাহত এবং সরকারি ও স্থানীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে দুঃখ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান সবাইকে ধৈর্য ধারণ ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে এবং আলোচনার ভিত্তিতে একটি মানবিক ও বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


