সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা যাবে না

চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা যাবে না

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা যাবে না। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক দল কিংবা সরকারের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সিলেট সার্কিট হাউজে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় বক্তৃতাকালে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।

তিনি সিলেটের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্রসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আগাম সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মাদকের কারণে সমাজে নানা ধরনের অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি হচ্ছে। তাই মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা ও জনসচেতনতা তৈরিতে সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।

সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকারের অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা ও কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র ভবিষ্যতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই লুট হওয়া অস্ত্র, অবৈধ অস্ত্র এবং নির্ধারিত সময়ে জমা না দেওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি জানান, অবৈধ অস্ত্রের তথ্য প্রদানকারীদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী সময়ে বিতর্কিতভাবে দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স যাচাই-বাছাই করে বাতিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অস্ত্র উদ্ধারে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

‘মব জাস্টিস’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মব সৃষ্টি বা মব জাস্টিসের বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। দাবি আদায়ের নামে মহাসড়ক বা সড়ক অবরোধ, সরকারি প্রতিষ্ঠান ঘেরাও কিংবা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি গ্রহণযোগ্য নয়। দাবি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন, জনসভা ও সেমিনারের মতো নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তা তুলে ধরতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মব সৃষ্টির কোনো সুযোগ না দেওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় সিলেটের বালু, পাথর ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ আহরণসংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষা, স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান, আদালতের রায় এবং দেশের প্রয়োজন। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বালু-পাথরসহ খনিজ সম্পদ আহরণসংক্রান্ত কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা মনিটরিং করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, পরিবেশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ প্রয়োজনীয় সংস্থার সমন্বয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, সিলেটের বালু-পাথর ব্যবসার সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। তবে এর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাও জরুরি। পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙনসহ সীমান্ত এলাকার ঝুঁকিগুলো সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। আদালতে চলমান মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

এদিকে সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সম্প্রতি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) নতুন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মাদকের শীর্ষ ৫০ ব্যবসায়ীর তালিকা প্রণয়ন করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সিলেটে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ অভিযান পরিচালনা করা গেলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এ কাজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও যানবাহন সরবরাহের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট এসএমপি দেশের অন্যতম বৃহৎ পুলিশি এলাকার দায়িত্ব পালন করছে। আগামীতে এসএমপি, রেঞ্জ পুলিশ ও জেলা পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান ফলাফল অর্জন করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন