কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা বলেছেন, ডিসি, এসপি বা ইউএনও—কারও কাছে তিনি কোনো অবৈধ সুপারিশ করবেন না। তিনি যা নিয়েই যান, তা জনগণের উপকারের জন্যই নিয়ে যান, যাতে জনগণ শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি স্মৃতির কথা উল্লেখ করে আমির হামজা হাসতে হাসতে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সবাই দেখা করেছে, আমিও হাত মেলাতে গেছি। আমাকে তিনি বলেছেন, আপনিও তো প্রধানমন্ত্রী। আমি বললাম, এটা তো আমি রূপক অর্থে বলেছি।’
এ বিষয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার কথা হলো, একটা দেশে প্রধানমন্ত্রী কয়জন থাকে! কুষ্টিয়া তো একটা দেশ নয়; একটা জেলা। এক আসনে প্রধানমন্ত্রী হয় কেউ! পাগলেও তো বলবে, এটা রূপক অর্থে বলা হয়েছে।’
হলফনামার প্রসঙ্গ টেনে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘হলফনামা দিয়েছি, পাঁচ বছরে আমার একটি টাকাও বাড়বে না। সুতরাং, আপনার কাছে অন্য কোনো আবদার নিয়ে আসব কেন!’
প্রশাসন ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাজের জবাবদিহিতা নিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মুফতি আমির হামজা বলেন, ‘আমাদের ঘোষণা, যারা জনগণের জন্য কাজ করবে না, তাদের আমি রাখব না। বিকালে দুই ওসি-এসপি পাল্টিয়ে দিয়েছি। ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছিলাম। যদি না ধরেন, তাহলে ঘেরাও দেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগে ডিসি-এসপিরা ঝাড়িমারা কথা বলত, আর এখন কথা বললে ৬০ সেকেন্ডের ৪০ সেকেন্ড স্যার স্যার করে। কারণ, তিনি জানেন যে কিছু হলেই ১০ হাজার মানুষ দিয়ে ঘেরাও দিলে আমি আর থাকতে পারব না। তারা জানেন, আমি কোনো খারাপ আবদার নিয়ে আসব না।’
সারা দেশে এই ব্যবস্থা চালু করার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা যদি সারা বাংলাদেশে এই সিস্টেমটি চালু করতে পারি, সাড়ে চার বছর এখনও সময় আছে, এই সময়ে আল্লাহ এই জমিনটি আমাদের জন্য অনুকূল করে দেবেন।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


