ভিন্নমত দমনে গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনায় ছাত্রশিবিরের উদ্বেগ

স্টাফ রিপোর্টার

ভিন্নমত দমনে গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনায় ছাত্রশিবিরের উদ্বেগ

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভিন্নমত প্রকাশের জেরে দেশজুড়ে সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।

বিজ্ঞাপন

তাদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতারা সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জেলায় হওয়া গ্রেপ্তারের চিত্র তুলে ধরেন। তারা বলেন, স্রেফ ফেসবুক পোস্ট ও কার্টুন শেয়ারের অভিযোগে ময়মনসিংহ থেকে আজিজুল হক, ঢাকা থেকে হাসান নাসিম, মুন্সীগঞ্জ থেকে শাওন মাহমুদ এবং ঠাকুরগাঁও থেকে আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এমনকি ভোলায় বিবি সাওদা নামে এক গৃহিণীকেও একই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যদিও তীব্র প্রতিবাদের মুখে আদালত তাকে জামিন দিতে বাধ্য হয়। প্রতিটি গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে বন্দিদের মুক্তি দাবি করেন তারা।

সরকারের কর্মকাণ্ডকে ‘দ্বিমুখী আচরণ’ হিসেবে অভিহিত করে তারা বলেন, নির্বাচনের আগে বাকস্বাধীনতার নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমানে সরকার সমালোচনা সহ্য করতে পারছে না। বিশেষ করে ময়মনসিংহে কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়াই ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার এবং ঢাকায় সাইবার সুরক্ষা আইনের অপপ্রয়োগ করে কার্টুনিস্ট ও অ্যাক্টিভিস্টদের টার্গেট করা হচ্ছে।

তাদের মতে, অসাধু সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং নিজেদের প্রশাসনিক ব্যর্থতা আড়াল করতেই জনগণের মধ্যে ভীতি ছড়ানো হচ্ছে, যা একটি স্বাধীন ও সভ্য রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক।

বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকরা সরকারের ভুল-ত্রুটি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমান সরকার বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের মতো ডিজিটাল ক্র্যাকডাউন শুরু করেছে। সাধারণ ছাত্র, গৃহিণী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের যেভাবে ঘর থেকে তুলে নিয়ে মামলা দেওয়া হচ্ছে, তা মূলত ভিন্নমত দমনের একটি নীল নকশা। সরকার পুনরায় ফ্যাসিবাদী কাঠামোর দিকেই ধাবিত হচ্ছে।

তারা বলেন, সাধারণ মানুষের পকেট কাটা এবং বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার রাজনীতি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। ব্যর্থতার দায় জনগণের ওপর না চাপিয়ে বরং সমালোচনা গ্রহণ করার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে হাসান নাসিম ও আজিজুল হকসহ রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তারকৃত সকল বন্দির অনতিবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানানো হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন