রাষ্ট্রপতির মেরুদণ্ড হয় শক্ত নয় বাঁকা হয়ে গেছে: সংসদে জামায়াত এমপি

সংসদ রিপোর্টার

রাষ্ট্রপতির মেরুদণ্ড হয় শক্ত নয় বাঁকা হয়ে গেছে: সংসদে জামায়াত এমপি
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতির মেরুদণ্ড হয় শক্ত না হয় বাঁকা হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (নড়াইল-২) আতাউর রহমান। সোমবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি রাষ্ট্রপতিতে ধন্যবাদ জানানোর কারণে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের কঠোর সমালোচনা করেন।

আতাউর রহমান বলেন, এই রাষ্ট্রপতিতে আজ যারা ধন্যবাদ জানান, বিশেষ করে আমার বন্ধু সংগঠনের যারা আজকে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ধন্যবাদ জানান। আমি মাঝে মাঝে খেয়াল করে দেখি উনাদের কেউ যদি একটু বেশি ধন্যবাদ দিয়ে ফেলেন পাশের জন মুচকি হাসি দেন। তিনিও ভাবেন এই ধন্যবাদ হয়তো তাদের জন্য ঠিক নয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি সংসদে যে বক্তব্য রেখেছেন সেই বক্তব্যের বিষয়ে অন্তর থেকে আমার কোন ভালোবাসা তৈরি হচ্ছে না। কারণ এই রাষ্ট্রপতিই বিগত সময়ে ফ্যাসিজমের সকল কার্যক্রমকে বৈধতা দিয়েছেন। যে রাষ্ট্রপতি তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারের অন্ধকারে রেখে হত্যা করাটাতে বৈধ করেছিল- সেই রাষ্ট্রপতিকে এই সংসদে দাঁড়িয়ে আজ ধন্যবাদ দিচ্ছি। আমি নিশ্চিত এর মাধ্যমে বেগম জিয়ার আত্মা চরমভাবে কষ্ট পাবে। সেজন্য এই দায়িত্ব যারা পালন করছেন সেই বন্ধুদের অনুরোধ করবো। নিশ্চয়ই আমাদের হিসাব নিকাশ করে কথা বলা দরকার।

জামায়াতে ইসলামীর এই এমপি বলেন, মরহুম শহীদ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এই সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘কুকুরে লেজ নাড়ায় না লেজে কুকুর নাড়ায়’ সেটা বুঝতে পারি না। রাষ্ট্রপতির ভাষণ শোনার পরে আমার কাছে দুটি জিনিস মনে হয়েছে। হয় আমাদের রাষ্ট্রপতির মেরুদণ্ড অনেক শক্ত হয়েছে। না হলে মনে হয়েছে রাষ্ট্রপতিরে মেরুদণ্ড কেউ বাঁকা করে দিয়েছেন। শেষটাই আমার কাছে মনে হয়েছে সবচেয়ে পারফেক্ট।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ প্রসঙ্গে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, একটি আদেশের বিষয়ে তিনি রাষ্ট্রপতিতে জিজ্ঞাসা করেছিলেন- সেটা দিয়েছেন কী না? রাষ্ট্রপতি নাকি উনাকে জবাব দিয়েছিলেন- আমি তো দিতে চাইনি। আমাকে দিয়ে দেয়ানো হয়। ওই ঘটনা বর্ণনা করে রাষ্ট্রপতি উনাকে বলেছিলেন- রাজহংসকে জোরপূর্বক ডিম্ব পাড়ানো হয়েছে। আজকে রাজহংস আবারো এখানে ডিম পাড়ছে কী পাড়ছে না- তা আমাদের বিশ্বাস করার সুযোগ আছে বলে মনে করি না। যে রাজহংস মালিক পরিবর্তন হলে ডিমের কালার পরিবর্তন করে ওই রাজহংসের বক্তৃতায় আমাদের ধন্যবাদ জানানোর সুযোগ নেই।

এমপি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন