বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে, ব্যক্তিগত বা দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। আমরা যার সঙ্গেই কাজ করি না কেন, মূল লক্ষ্য হতে হবে দেশের কল্যাণ।
শনিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত এক নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, এই দেশকে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে আমাদের প্রয়োজন প্রতিভাবান ও যোগ্যতাসম্পন্ন তরুণ সমাজ। এমন মেধাবী মানুষদেরই আমাদের দরকার, যারা তাদের জ্ঞান ও কাজের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে দেবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি গড়ে উঠেছে তিনটি স্তম্ভের ওপর—শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং আইন বিভাগ। প্রশাসনিক পদ বা এই পিরামিড কাঠামো যতই শক্তিশালী হোক না কেন, যদি সমাজে ন্যায়নীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা না যায়, তবে জনগণ কখনোই আইনের সুফল পাবে না।
কোনো বড় পদে বসলেই মানুষ সম্মানিত হয়ে যায় না উল্লেখ করে শিশির মনির বলেন, ব্যক্তির যোগ্যতা, নীতি ও কাজের মাধ্যমেই পদ সম্মানিত হয়। আমাদের শ্রেণিকক্ষেই আমরা দেখি—সব শিক্ষকের বড় ডিগ্রি থাকলেও সবাই শিক্ষার্থীদের হৃদয় স্পর্শ করতে পারেন না। শিক্ষকতা কিংবা নেতৃত্ব—সব ক্ষেত্রেই প্রকৃত মান ও আন্তরিকতাই আসল মূল্যায়ন তৈরি করে।
শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক ইসহাক ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, রাবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান, চাকসুর সাবেক ভিপি জসিমউদ্দীন সরকার প্রমুখ।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানের দুই পর্বে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে নবীনদের কোরআন শরিফ, প্যাড-খাতা, কলম, বিভিন্ন বই, টি-শার্ট এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির ফ্রেমে বাঁধানো ছবি উপহার দেওয়া হয়।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

