কাগজে-কলমে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে সেগুলোর কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৯ নম্বর দারোরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন খন্দকারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৪টি কথিত উন্নয়ন প্রকল্পের নামে প্রায় ২৯ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন দারোরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রমিজ উদ্দিন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দারোরা ইউনিয়নে ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মোট ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইউপি সদস্য রমিজ উদ্দিনের দাবি, এসব প্রকল্পের বেশিরভাগেরই বাস্তবে কোনো কাজই করা হয়নি। অথচ কাগজপত্রে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, গত ২৯ জুলাই জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া পৃথক অভিযোগে ২০২২-২০২৩ ও ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের আরও দুটি ভুয়া প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
রমিজ উদ্দিন আরো জানান, টি-আর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পগুলোতেও একই ধরনের অনিয়ম হয়েছে এবং একই স্থানে বারবার প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সংরক্ষিত নারী সদস্য আয়েশা বেগম অভিযোগ করে বলেন, কাজিয়াতল এলাকায় মবিনের বাড়ি থেকে অজিদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার পাশে পুকুরে গাইড ওয়াল নির্মাণের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আমাকে জানানো হয় প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারি, প্রকল্প বাতিল দেখালেও বরাদ্দকৃত পুরো টাকা উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে।
লিখিত অভিযোগটি পাওয়ার পর বিষয়টি আমলে নিয়েছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। গত ১৫ জুলাই অভিযোগ জমা পড়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাটি সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে আত্মসাৎ ও অনিয়মের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দারোরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন খন্দকার। তিনি দাবি করেন, অভিযোগে উল্লেখিত প্রকল্পগুলোর কাজ ২০২২-২০২৩ অর্থবছরেই সম্পন্ন হয়েছে, যা মূলত ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের বরাদ্দের আওতাভুক্ত ছিল। ফলে ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রকল্পের নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
মুরাদনগরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হাছান খান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে এবং তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকল্পের ফাইল, বরাদ্দ, বিল-ভাউচার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কার্যক্রম এবং সরেজমিন বাস্তবতা যাচাই করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

