নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে শপথের দিনই বিএনপির সংসদ সদস্যরা (এমপি) জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। বিএনপির এমপিদের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা না দিয়ে দেশ গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জুলাইয়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতি: সরকার ও নতুন সংসদের কাছে নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় আখতার হোসেন এ আহ্বান জানান।
আখতার হোসেন বলেন, জুলাই সনদের আদেশের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে একই শপথ অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা বলা আছে। কিন্তু বিএনপির এমপিরা তা না করে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। এর মাধ্যমে শপথের দিনই জুলাই সনদের পাঁচ দফা আদেশ লঙ্ঘন করা হয়েছে। আইনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা সত্ত্বেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্যরা জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়কে অসম্মান করেছেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালালেও পরে জনগণের মনোভাব বুঝে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেয়। এখন আবার আদালতের আশ্রয় নিয়ে গণভোটের রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত জনগণের সার্বভৌম আকাঙ্ক্ষাকে আদালতের অধীন করা যায় না।
বিএনপি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে আখতার হোসেন বলেন, তারা এখনো ভুল পথে আছেন, তবে সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি। আগামী ১২ মার্চ সংসদের অধিবেশন শুরুর আগেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপির সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, তারা শপথ নিয়ে জনগণের অর্পিত দায়িত্ব পালনে দায়বদ্ধ। কোনো আইনি কৌশলের মাধ্যমে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় তারা সংসদের ভেতরে ও বাইরে সোচ্চার থাকবেন।
আওয়ামী লীগের পতনের প্রসঙ্গ টেনে আখতার হোসেন বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতায় টিকে থাকার মানসিকতার কারণে আওয়ামী লীগের পরিণতি সবাই দেখেছে। বিএনপি যদি একই পথে হাঁটে, তাহলে জনগণ তাদেরও প্রত্যাখ্যান করবে। যারা চাতুরির আশ্রয় নেয়, তাদের জন্য রাজপথ প্রস্তুত আছে।
সৎ দেশপ্রেমিক শিক্ষকদের তথ্য চেয়ে গুগল ফর্ম প্রকাশ এনসিপির
শিক্ষাক্ষেত্রের সমস্যা চিহ্নিত করা ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে সৎ ও দেশপ্রেমিক শিক্ষকদের তথ্য আহ্বান করে একটি গুগল ফর্ম প্রকাশ করেছে এনসিপি। রোববার ফেসবুকে দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব ও শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত স্বাক্ষরিত এক বিবৃতি দিয়ে ফর্ম প্রকাশের কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে শিক্ষকদের উদ্দেশে বলা হয়, জুলাই ২০২৪-এর ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান কেবল একটি সরকার পতনের ঘটনা ছিল না; এটি ছিল নৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের সূচনা। শিক্ষা খাতসহ রাষ্ট্রের ভেঙে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন, অংশীজনদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং সেগুলোর গণতান্ত্রিক চরিত্র পুনর্নির্মাণ ছিল ওই অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা।
এতে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা দল হিসেবে এনসিপি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং শিক্ষাক্ষেত্রের নানা অসংগতি নিয়ে সরব রয়েছে। অধিকার আদায়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দলটির নেতা-কর্মীরা রাজপথেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পরও শিক্ষাক্ষেত্রে প্রত্যাশার তুলনায় অর্জন খুবই সীমিত। এই অবস্থায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এনসিপি কাজ করে যাবে।
শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষা খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতে চায় দলটি। এ লক্ষ্যে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী শিক্ষকদের একটি গুগল ফর্মে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

