জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে বিদিশা

জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে বিদিশা
ফাইল ছবি

রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিদিশা সিদ্দিকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বিদিশা সিদ্দিক সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী।

বুধবার (২৬ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে একই দিন আপিলের শর্তে জামিন চেয়ে আদালতে আবেদন করেন বিদিশার আইনজীবী আতিকুর রহমান। তবে রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানান। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত এ মামলার রায়ে বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রায়ে বলা হয়, জরিমানার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তিনি মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী।

বাদীর অভিযোগ, ২০০১ সালে রাজধানীর বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার বিষয়ে বিদিশা সিদ্দিকের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। পরে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়ে তাদের মধ্যে চুক্তি হয়।

ওই বছরের ১০ জুলাই বিদিশা তাকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নিয়ে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। পরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন বাদী। এ সময় উভয়ের মধ্যে বায়নানামাও সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।

পরে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।

বাদীর অভিযোগ, এরপরও বিভিন্ন অজুহাতে টাকা ফেরত দেওয়া বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। এমনকি পাওনা টাকা বা ফ্ল্যাট ফেরত চাইলে সন্ত্রাসীদের দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদিশা বাদীকে জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে।

এখন জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় কারাগারেই থাকতে হচ্ছে বিদিশাকে। তার আইনজীবী আপিলের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানা যায়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন