আরব বিশ্বে বাড়ছে খাদ্য ও পানির সংকট, মরুকরণে ব্যাহত ফসল উৎপাদন

আরব বিশ্বে বাড়ছে খাদ্য ও পানির সংকট, মরুকরণে ব্যাহত ফসল উৎপাদন

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আরব বিশ্বে পানির সংকট, কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়া এবং খাদ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্বের সবচেয়ে পানি-সংকটপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি আরব বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে আরও বড় খাদ্য ও মানবিক সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর তথ্য অনুযায়ী, আরব দেশগুলোতে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৫ শতাংশেরও কম। একই সঙ্গে মরুকরণও বাড়ছে। ফলে কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় পানির সরবরাহ কমে যাওয়ায় খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরব বিশ্ব খাদ্যের জন্য ব্যাপকভাবে আমদানিনির্ভর। এফএওর হিসাবে, ২০৩১ সালের মধ্যে অঞ্চলটির মোট খাদ্য চাহিদার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ হতে পারে। উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্যের ৯০ শতাংশের বেশি আমদানি করে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি বা সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে এসব দেশ ঝুঁকিতে পড়বে।

মিসরের মতো দেশগুলোর ঝুঁকি আরও বেশি। দেশটি গমের প্রায় অর্ধেক আমদানি করে। গমের দাম বাড়লে সরকারকে ভর্তুকি বাড়াতে হয়, আর সীমিত অর্থের কারণে অন্য খাতের ব্যয় কমানোর চাপ তৈরি হয়।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) আঞ্চলিক পরিচালক সামের আবদেলজাবের বলেন, খাদ্য আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বৈশ্বিক খাদ্যবাজারের সংকটের কাছে অঞ্চলটিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। জলবায়ুজনিত দুর্যোগ কৃষি উৎপাদন কমাচ্ছে, মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং খাদ্যের দাম বাড়াচ্ছে।

সংঘাতপ্রবণ দেশগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। ইয়েমেন, সিরিয়া, ফিলিস্তিন এবং ইরাক ও লিবিয়ার কিছু এলাকায় খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুতর বলে জানিয়েছে ডব্লিউএফপি। সংঘাতপূর্ণ দেশগুলোতে অপুষ্টির হার সংঘাতমুক্ত দেশের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় ৪ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষ মৌলিক পানীয়জল সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। একই সময়ে অঞ্চলটির প্রায় ১০ জন শিশুর মধ্যে ৯ জন উচ্চ বা অত্যন্ত উচ্চ পানিসংকটের এলাকায় বসবাস করছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকট মোকাবিলায় শুধু খাদ্য ও পানি সরবরাহ করলেই হবে না; বরং আগাম সতর্কতা, পানির কার্যকর ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি, ভূগর্ভস্থ পানির নির্ভরযোগ্য উৎস এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় সক্ষমতা বাড়াতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও সমাধান ইতোমধ্যে রয়েছে—এখন প্রয়োজন তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন