উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরখাস্ত, সামরিক নেতৃত্বে বড় রদবদল

উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরখাস্ত, সামরিক নেতৃত্বে বড় রদবদল
উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং চোল। ছবি: সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং চোলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সামরিক ও দলীয় নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। শনিবার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সামরিক নেতৃত্বের ‘কাঠামোগত পুনর্গঠন পরিকল্পনা’ অনুমোদনের পর এসব পরিবর্তন আনা হয়।

বিজ্ঞাপন

রোববার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ হারানোর পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্বেও পদাবনতি হয়েছে নো কোয়াং চোলের। তাঁকে দলের অস্ত্রশিল্প বিভাগের প্রথম উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কোরিয়ান পিপলস আর্মির জেনারেল পলিটিক্যাল ব্যুরোর পরিচালক কিম সং গি।

সামরিক নেতৃত্বে আরও পরিবর্তন আনা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পাক জং চোনকে কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে ক্ষমতাসীন দলের পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্য করা হয়েছে। এ ছাড়া সামরিক ও দলীয় নেতৃত্বে আরও কয়েকজন কর্মকর্তার পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

অস্ত্র উন্নয়নে জোর

সামরিক নেতৃত্বে রদবদলের সময়েই প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে অগ্রগতির কথাও জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

কেসিএনএ জানায়, শনিবার এক অনুষ্ঠানে কিম জং উন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে অগ্রগতির জন্য বিজ্ঞানী, গবেষক ও কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেন। তাঁদের রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা দেওয়া হয়।

কেসিএনের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ‘নতুন যুদ্ধাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরিতে যুগান্তকারী গুরুত্বের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে’ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তবে কী ধরনের অস্ত্রব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

কেসিএনএ প্রকাশিত একটি ছবিতে কিম জং উনকে একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তির বুকে পদক পরিয়ে দিতে দেখা যায়।

দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণা কেন্দ্র সম্প্রতি কিছু ‘বিশেষ প্রযুক্তি’ উদ্ভাবন করেছে বলেও দাবি করেছে কেসিএনএ। সংস্থাটির ভাষ্য, যুদ্ধ করার সক্ষমতা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে প্রযুক্তিগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

কেসিএনএর দাবি, এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া তার সামরিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ‘অনন্য উন্নয়নের পথ’ তুলে ধরেছে।

এর আগে জুনের শেষ দিকে কিম জং উন নতুন একটি দূরপাল্লার একাধিক রকেট নিক্ষেপ ব্যবস্থা ও কামানের পরীক্ষা প্রত্যক্ষ করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন

উত্তর কোরিয়ার সামরিক নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের ঘোষণা এসেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার পরপরই।

পিয়ংইয়ং নিয়মিত এসব মহড়াকে উত্তর কোরিয়ায় হামলার প্রস্তুতি হিসেবে নিন্দা করে আসছে। তবে এবার মহড়াটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বছর মহড়াটি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

ট্রাম্প এসব সামরিক মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি উসকানিমূলক বলেও সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর যুদ্ধে সমর্থন না দেওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন।

অন্যদিকে কিম জং উনের প্রশংসাও করেছেন ট্রাম্প। তাঁর প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে দুবার বৈঠক করেছিলেন তিনি। এবার আবারও কিমের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। চলতি বছরেই এমন বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ট্রাম্পের এসব উদ্যোগে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তেমন ইতিবাচক সাড়া দেখা যায়নি। দেশটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমিত পরিসরের সামরিক মহড়ারও নিন্দা করেছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন এবং উত্তর কোরিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য নথিভুক্ত করার কর্মসূচিতে অর্থায়নের পরিকল্পনারও নিন্দা জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।

সেপ্টেম্বরে তিন দেশের মহড়া

এদিকে ওয়াশিংটন ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান আগামী ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ‘ফ্রিডম এজ’ নামে ত্রিপক্ষীয় যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেবে। দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ মহড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলা এবং এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় তিন দেশের এই বার্ষিক মহড়া একটি প্রতিরক্ষামূলক সামরিক অনুশীলন।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন