রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী মাজারে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপ-প্রধান সারোয়ার তুষার। তিনি বলেছেন, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় স্পষ্ট থাকার পরও তাদের আড়াল করতে ‘মব’ শব্দের ব্যবহার লক্ষ করা যাচ্ছে। এভাবে “উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে সরকার দায় এড়াতে পারবে না”।
শনিবার বিকালে রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী মাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
গত দুই বছরে মাজারে হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে সারোয়ার তুষার বলেন, কুষ্টিয়ার ফিলিপনগরসহ বিভিন্ন মাজারে হামলায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় স্পষ্ট। ফিলিপনগরের ঘটনায় সরকারি দলের নেতাদের জড়িত থাকার প্রমাণ থাকার পরও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সারোয়ার তুষারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন— এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হক, প্রীতম দাশ, হুমায়রা নূর, ধর্ম ও সম্প্রীতি সেলের তারেক রেজা, শ্রমিক শক্তির মাজহারুল ইসলাম ফকির, কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম খান পাঠান, জায়েদ বিন নাসের, যুবশক্তির লুৎফর রহমান নয়ন, জাতীয় নারীশক্তির তাহমিনা শারমিন যুথী, ঢাকা মহানগর উত্তরের কাজী সাইফুল ইসলাম, শাহ আলী থানার প্রধান সমন্বয়ক শফিকুল ইসলাম রানা প্রমুখ।
তারা মাজার জিয়ারতের পাশাপাশি আক্রান্তদের সাথে কথা বলেন এবং ঘটনার বর্ণনা শোনেন। পরে এনসিপি নেতারা শাহ আলী থানার অফিসার ইন চার্জের সাথেও সাক্ষাৎ করে হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এর আগে এনসিপির দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত ১৪ মে শাহ আলী মাজার এলাকায় সংঘটিত হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর। এতে বলা হয়, এ ধরনের হামলা শুধু আইনশৃঙ্খলার অবনতিকেই নির্দেশ করে না, বরং এটি সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও জননিরাপত্তার জন্যও অশনিসংকেত। কোনো মতপার্থক্য কিংবা চর্চাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও হামলার পথ কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আমরা সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে শান্ত, সংযত ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানাই। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকার ও জনগণকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

