সরকারের ভেতরেই অনেক সরকার রয়েছে মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আগের সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি স্পষ্ট থাকলেও এখন কে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা বোঝা যাচ্ছে না।
রোববার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের গভর্নমেন্টের অনেক মুড সুইং হয়। মানে গভর্নমেন্ট আসলে কে এটা বোঝা যাচ্ছে না। মানে এটা আসলে হাসিনার সময় বোঝা যেত যে, ডিসিশনটা দিন শেষে কে নেয়। ডিভোর্সের প্রবলেমও দিন শেষে ডিসিশন দেয় হাসিনা। দিন শেষে সবাই দৃষ্টি আকর্ষণ করত হাসিনার। এখন বোঝা যাচ্ছে না, সিদ্ধান্তটা কে নেয়। আমার মনে হচ্ছে, সরকারের মধ্যেও আরও অনেক সরকার আছে।
সরকারের কাছে মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল রাষ্ট্রের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল সেই জায়গা থেকে সরকার অনেক দূরে সরে যাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ওই দিন জনাব সালাহউদ্দিন সাহেব স্বীকার করলেন, ‘‘আমরা আসলে তখন যা বলা হয়েছে, একরকমভাবে সংস্কার ও নির্বাচন হওয়ার জন্যে সেটা মেনে নিয়েছি; শুধুমাত্র নির্বাচনটা যেন হয়ে যায়, সেই কারণে আমরা মেনে নিয়েছি।’ ’ এটা সরকারের একটা দুর্বলতা। এটা এক ধরনের ভণ্ডামি। মানে উনি সংসদের মধ্যে দাঁড়িয়ে উনার ভণ্ডামি, উনার হিপোক্রেসি জাতির সামনে প্রকাশ করছেন।’
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিচার বিভাগ, আমলাতন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে যে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন ছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ পুলিশও মানুষ, তাদের নিজস্ব সুরক্ষা ও পেশাগত স্বাধীনতা প্রয়োজন। সরকার যদি মনে করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ না করলে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়, তাহলে তা দীর্ঘ মেয়াদে ইতিবাচক ফল দেবে না। এতে নাগরিকদের মধ্যে বঞ্চনা, প্রতারিত হওয়ার অনুভূতি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থাহীনতা বাড়ছে।’
জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং শক্তিশালী, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিকল্প নেই। জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা থেকে পরিবর্তনের আশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ করতে হলে প্রকৃত অর্থে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।
এমপি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

