নিষিদ্ধ হয়েছেন অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়। পাশাপাশি এত দিন ধরে তাদের অর্জিত পদকগুলোও বাতিল করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। আজ শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ফেডারেশন জানায়, সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট জান্নাত ও নৌবাহিনীর কবিতা রায়ের বিরুদ্ধে লিঙ্গ নির্ধারণ বিষয়ে নিজ নিজ সংস্থার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুরোধ জানানো হয়।
এ পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে। শুরু হয় অ্যাথলেটদের শারীরিক পরীক্ষা কার্যক্রম। গত ১১ মে সেই কার্যক্রম শেষ হয়। ১৬ মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় মেডিকেল বোর্ড।
সেখানে ২৮ বছর বয়সি জান্নাত ও ১৯ বছর বয়সি কবিতার হরমোন ও শারীরিক পরীক্ষায় ‘ডিফারেন্স অব সেক্স ডেভেলপমেন্ট’ ধরা পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষা অনুযায়ী তারা পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। চিকিৎসক বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুই অ্যাথলেটের ‘পেনোস্ক্রোটাল হাইপোস্পেডিয়াস’ রয়েছে এবং উভয় গোনাড (জননগ্রন্থি) ইনগুইনাল ক্যানেলে অবস্থিত। রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রার ক্ষেত্রে দেখা যায়, জান্নাতের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৯.৬৬। যা ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্সের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা ২.৫ অপেক্ষা প্রায় ৮ গুণ বেশি। অন্যদিকে কবিতা রায়ের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৬.৫০। যা নির্ধারিত সীমা ২.৫ অপেক্ষা সাড়ে ৬ গুণেরও বেশি। বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের বিধিমালা অনুযায়ী নারী বিভাগে অংশগ্রহণের জন্য অ্যাথলেটের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ধরে ২.৫ এর নিচে থাকা বাধ্যতামূলক। জান্নাত ও কবিতা দুজনই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন।
আজ শনিবার এক বৈঠকে অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন জান্নাত ও কবিতাকে নারী অ্যাথলেট হিসেবে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে জ্যাভলিন থ্রো ও ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে জান্নাতের অর্জিত ২টি নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ ৮টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪×১০০ মিটার ইভেন্টে কবিতার অর্জিত ১টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়েছে। উক্ত ইভেন্টগুলোর পদকগুলো তালিকায় পরবর্তী স্থানে থাকা অ্যাথলেটদের মাঝে আইনানুযায়ী পুনর্বণ্টন (বডিলি শিফট) করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

