রংপুরের ফোর মার্ডার: পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি

রংপুরের ফোর মার্ডার: পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় আদালতে আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর সামনে আসছে নতুন প্রশ্ন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ বলছে, সামনে আসা প্রতিটি নতুন তথ্য ও প্রশ্নই যাচাই করা হচ্ছে। ব্যাংক হিসাব, ডিএনএ ও ডোপ টেস্টের ফলসহ তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি এলে হত্যাকাণ্ডের পেছনের আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ।

বৃহস্পতিবার পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চারজন খুনের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলে পুলিশ জানায়, তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। নতুন কোনো তথ্য, প্রশ্ন বা সম্ভাব্য সূত্র সামনে এলে সেগুলোও তদন্তের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, আসামি সিদ্ধার্থ দাস আদালতে জবানবন্দিতে একটা কথা উঠে এসেছে, তার পূর্বপুরুষদের জমি গণপতি চক্রবর্তী কিনেছিল। তাদের এটা নিয়ে একটা মনের মধ্যে একটা ক্ষোভ থাকতে পারে।

কমিশনার বলেন, ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা, ডিএনএ, ডোপ টেস্ট, ব্যাংক হিসাব এবং নতুন সাক্ষ্য, সবকিছু মিলিয়েই তারা হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ চিত্র বের করার চেষ্টা করছেন। গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্ট এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়াও চলছে। আদালতের অনুমতি এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এসব পরীক্ষা করা হবে।

নিহত চারজনের একজন প্রার্থী চক্রবর্তী। অদিত্য নামের একা যুবকের সাথে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল, সেই অদিত্যও পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য, শুক্রবার থেকে প্রার্থীর ফোন বন্ধ পাওয়ার পর অদিত্য কর বারবার ওই বাড়ির সামনে গিয়েছেন। শুক্রবার ও শনিবার তিনি বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করেন এবং প্রতিবেশীদের কাছেও খোঁজ নেন। এসময় প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, পরিবারটি কোথাও চলে গেছে, শুক্রবার থেকে তাদের দেখা যায়নি।

এই হত্যাকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা দাবী করে পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সময় চিৎকার শুনেছিলেন এক নারী। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে শুধু আসামিদের তাৎক্ষণিক বক্তব্যই নয়, অন্য কোনো পুরনো বিরোধ বা ক্ষোভ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের দেওয়া বক্তব্যের চেয়ে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের অনেক বিষয় আরও স্পষ্ট হয়েছে।

চারজনকে কেন হত্যা করা হলো, এর পেছনে শুধু ধরা পড়ার ভয়, তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি ছিল, নাকি পুরনো জমি, টাকা, সামাজিক দূরত্ব বা অন্য কোনো ক্ষোভও কাজ করেছে সেটিই এখন তদন্তের বড় প্রশ্ন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন